কয়রায় তেল পাম্প না থাকায় দুর্ভোগ, স্থবির জনজীবন

সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একই সাথে উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

কয়রা (খুলনা) সংবাদদাতা

Location :

Koyra
জ্বালানি তেলের দোকান
জ্বালানি তেলের দোকান |নয়া দিগন্ত

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় কোনো জ্বালানি তেল পাম্প না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় দুই লাখ মানুষ। জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

উপজেলার দুর্গম এলাকায় যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ইঞ্জিনচালিত নৌকা, নসিমন-আলমসাধু ও মোটরসাইকেল। কিন্তু জ্বালানি তেলের অভাবে অধিকাংশ যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একই সাথে উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

কয়রা ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, সংকট শুরুর আগে খুলনার দৌলতপুরের তেল ডিলার ফরিদ অ্যান্ড ব্রাদার্স ও রেজোয়ান এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে ২৩০-২৫০ ব্যারেল জ্বালানি তেল কয়রায় সরবরাহ করা হতো। তবে রমজানের আগে খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রায় ৪২ লাখ টাকা জমা দিলেও তারা পর্যাপ্ত তেল পাননি। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা সদর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম মোটরসাইকেল ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা। কিন্তু তেলের অভাবে এসব যানবাহনের অধিকাংশই বন্ধ রয়েছে। ডিজেলের তীব্র সংকটে মৎস্য ঘের, তরমুজ ক্ষেত ও ধান চাষের জমিতে পানি উত্তোলন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে রফতানিযোগ্য চিংড়ি ও কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়েছে।

মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের সাতহালিয়া গ্রামের কৃষক কল্লোল মণ্ডল বলেন, ‘১৪০ টাকা লিটার দরে ডিজেল কিনে তরমুজ ক্ষেতে পানি দিতে হচ্ছে। তারপরও প্রয়োজনীয় তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে চাষাবাদ বন্ধ করতে বাধ্য হবো।’

দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের (ভারপ্রাপ্ত)চেয়ারম্যান মো: ওসমান গনি (খোকন) বলেন,‘আমাদের ইউনিয়নে ট্রলার ও মোটর সাইকেলই প্রধান যাতায়াত মাধ্যম। কিন্তু তেলের অভাবে অধিকাংশ যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। হাতেগোনা কিছু ট্রলার চলাচল করলেও যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে।’

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, ‘উপজেলায় কোনো জ্বালানি তেল পাম্প না থাকায় এই ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করা হয়েছে।ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি, সকলের সম্মিলিত উদ্যোগে সংকট নিরসনের চেষ্টা চলছে।’