ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে একইদিনে পৃথক দুইটি সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত এবং কমপক্ষে সাতজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) একপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর ও সিরাজদিখান উপজেলায় পৃথক এ দুর্ঘটনা দু’টি ঘটেছে।
জানা গেছে, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ফেরিঘাট এলাকায় যাত্রীবাহী একটি বাসের নিচে চাপা পড়ে এক মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীসহ মোট দু’জন নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় নিহত ওই দু’জন হলেন— সোহেল রানা (৪৯) ও মতিউর রহমান (৫০)। তাদের দু’জনেরই বাড়ি কেরানীগঞ্জ এলকায়। মাওয়ায় একই ব্যাচের বন্ধুদের একটি মিললমেলার অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফিরছিলেন দুই বন্ধু।
হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ারসার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় শ্রীনগর উপজেলার ফেরিঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা ঢাকামুখী সুরভী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা একটি মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার দেওয়ান আজাদ হোসেন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে মোটরসাইকেলের অপর আরোহীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। পরে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়।
হাঁসাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ টি এম মাহমুদুল হক দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে নয়া দিগন্তকে জানান, এ ঘটনায় ঘাতক ওই বাসটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অপরদিকে ঘন কুয়াশা ও অতিরিক্ত গতির কারণে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের নিমতলা রেলস্টেশন সংলগ্ন স্থানে অপর দুর্ঘটনাটি ঘটে। মর্মান্তিক ওই সড়ক দুর্ঘটনায় এক বাস সুপারভাইজার নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ছয়-সাতজন যাত্রী আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই বাসটির সুপারভাইজার তারেক (৪৫) নিহত হন। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার বাসিন্দা। সংঘর্ষের পর তার লাশ বাসের ভেতরে আটকে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করেন।
শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকামুখী লেনে এক্সপ্রেসওয়ের পাশে একটি পণ্যবাহী ট্রাক থেমে ছিল। এ সময় পূর্বাশা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতিতে এসে ট্রাকটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনায় বাসে থাকা একাধিক যাত্রী আহত হন এবং কয়েকজন বাসের ভেতরে আটকা পড়েন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার দেওয়ান আজাদ হোসেন বলেন, ‘ভোরের দিকে এক্সপ্রেসওয়েটি ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিল। ফলে দৃশ্যমানতা ছিল অত্যন্ত কম। কুয়াশার কারণে থেমে থাকা ট্রাকটি দেখতে না পেয়ে বাসটি পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন।’
তিনি আরো বলেন, ‘খবর পেয়ে শ্রীনগর ও সিরাজদিখান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একাধিক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। আহতদের উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
হাঁসাড়া হাইওয়ে থানার ওসি (তদন্ত) টি এম মাহমুদুল হক জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘন কুয়াশা ও অতিরিক্ত গতির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। নিহত তারেক বাসটির সুপারভাইজার ছিলেন। আহত ছয়-সাতজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।



