ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার ১ নম্বর চেঁচরী রামপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বানাই তফছেরের খেয়াঘাট থেকে বানাই বাজার পর্যন্ত খালটি এখন কচুরিপানায় ভরাট হয়ে মরাখালে পরিণত হয়েছে। কচুরিপানায় ভরে থাকায় খালটি নাব্যতা হারায়। সেই সাথে খালের পানি দূষিত হয়ে গেছে। ফলে খালের পানি মানুষের নিত্য ব্যবহারে কোনো কাজে আসছে না।
খালটি একসময় এলাকার কৃষকের সেচ সঙ্কট মোকাবেলা করত। শতবছর ধরে এলাকায় ভাড়ানী খাল হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে বানাই তফছেরের খেয়াঘাট থেকে বাজার পর্যন্ত দুই কিলোমিটার খালের অবস্থা খুবই করুন। খালটি বাকের খালের তফছেরের খেয়াঘাট থেকে শুরু হয়ে বানাই বাজার সংলগ্ন পোনা নদীতে গিয়ে মিশেছে। এক সময় এ খাল দিয়ে অসংখ্য নৌকা ও ট্রলার চলাচল করত। বর্তমানে খালটি সম্পূর্ণ কচুরিপানায় ভরা।
বানাই গ্রামের কৃষক আবদুল জলিল বলেন, ‘আগে ভালো পানি ছিল গোসলসহ গৃহস্থলির সমস্ত কাজ এই খালের পানিতে হতো। এখন গোসল তো দুরের কথা গবাদিপশুর গোসলেরও পানি নেই।’
এ গ্রামের গৃহবধু ফাতেমা বেগম বলেন, ‘শুকনো মৌসুমে সময় বাড়ীর পুকুরে পানি থাকে না গোসল ও রান্নার কাজে এই খালের পানিই একমাত্র ভরসা। কচুরিপানায় খাল ভরে যাওয়ায় পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য নাসির উদ্দিন লিটন বলেন, ‘এলাকায় লবনাক্ততার কারণে গভীর নলকুপ কার্যকর হয়না। ফলে বিশুদ্ধ পানির অভাব এখানকার মানুষের। গ্রামের মধ্য থেকে একটি মাত্র খাল তাহাও কচুরিপানায় ভরাট হয়ে পানি দূষিত হয়ে গেছে। ফলে পানিবাহিত রোগ বাড়ছে। মানুষ পানি সঙ্কটে ভুগছে।’
তিনি বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানাবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
খালের পূর্ব মাথায় বেড়িবাঁধের স্লুইসগেট এবং পশ্চিম মাথায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় কচুরিপানা কোথাও বের হতে পারছে না। এলাকাবাসীর দাবি কচুরিপানা অপসারণ করে পানি সরবরাহ করার ব্যবস্থা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মকবুল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’



