পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণবঙ্গমুখী মানুষের যাত্রা এবার স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন। ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেলেও কোথাও যানজট বা ভোগান্তি দেখা যায়নি।
বুধবার (১৮ মার্চ) ভোর থেকে রাজধানী ছেড়ে গ্রামের পথে ছুটতে শুরু করেন ঘরমুখো মানুষ। এতে দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনের চাপ বাড়লেও পরিস্থিতি ছিল স্বাভাবিক।
মহাসড়কে দূরপাল্লার বাসের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের সংখ্যাও ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে কোথাও যানবাহন থেমে থাকতে দেখা যায়নি। নির্বিঘ্ন যাত্রায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।
শ্রীনগরের হাসাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম মাহামুদুল হক বলেন, ‘ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মহাসড়কে দু’টি মোবাইল টিম ও চারটি পেট্রোল টিমসহ মোট ছয়টি টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। নিয়মিত টহল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) আলতাফ হোসেন শেখ বলেন, ‘পদ্মাসেতুর টোল প্লাজার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতি ৩ সেকেন্ডে ১০টি যানবাহন টোল দিয়ে সেতু পার হচ্ছে। মোটরসাইকেলের জন্য তিনটি আলাদা লেনসহ মোট ১০টি লেনে টোল আদায় করা হচ্ছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় প্রায় ৬০ হাজার যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে টোল আদায় হয়েছে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকা।’
মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মেনহাজুল আলম বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রায় ৫০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সমন্বিত ব্যবস্থাপনা অব্যাহত থাকলে এবারের ঈদযাত্রা দক্ষিণবঙ্গের মানুষের জন্য স্বস্তি থাকবে।



