এফডিআরের টাকার লোভে নগরকান্দার জামেলা বেগমকে খুন করা হয় : পুলিশ

পুলিশ বলছে, স্থানীয় একটি এনজিওতে এফডিআর হিসেবে জমা জমা করা অর্থ হাতিয়ে নিতেই পরিকল্পনা করে জামেলা বেগমকে হত্যা করা হয়।

কাজী আফতাব হোসেন, নগরকান্দা (ফরিদপুর)

Location :

Nagarkanda
মূল আসামি মো: আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ
মূল আসামি মো: আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ |নয়া দিগন্ত

ফরিদপুরের নগরকান্দায় ঘটনার চার দিন পর জামেলা বেগম হত্যা মামলার মূল আসামি তার ভাগ্নে মো: আলমগীর হোসেনকে (৪১) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, স্থানীয় একটি এনজিওতে এফডিআর হিসেবে জমা জমা করা অর্থ হাতিয়ে নিতেই পরিকল্পনা করে জামেলা বেগমকে হত্যা করা হয়।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে নগরকান্দা সার্কেল অফিসে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানায় পুলিশ।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, শুক্রবার দিবাগত রাতে অজ্ঞাতরা জামেলাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে লাশটি গুমের উদ্দেশ্যে বাড়ির পাশের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রাখা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই শেখ মোতালেব নগরকান্দা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা পর সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়।

পুলিশ জানায়, ঘটনার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ, সম্ভাব্য মোটিভ খোঁজা এবং সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারির মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও স্থানীয় সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে মূল আসামির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরে ভোর ৪টা ১৫ মিনিটে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাড়ীরটেক এলাকা থেকে আলমগীর হোসেনকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি নিহত জামেলা বেগমের ভাগ্নে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আলমগীর হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে আর্থিক সঙ্কটে পড়েন এবং বিভিন্ন স্থানে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় তিনি তার খালা জামেলা বেগমের কাছে টাকা ধার চান। কিন্তু খালা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার প্রতি ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

তদন্তে আরো জানা যায়, জামেলা বেগমের স্বামী মারা গেছেন এবং তার দুই মেয়ে থাকলেও কোনো ছেলেসন্তান নেই। তিনি একাই বাড়িতে বসবাস করতেন। এছাড়া জমি বিক্রির কিছু টাকা স্থানীয় একটি এনজিওতে এফডিআর হিসেবে জমা ছিল, যা হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা থেকেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে ধারণা করছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।