জামায়াত আমির

সরকার অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে, অধিকার আদায়ে আপস নয়

‘যারা সহিংসতা ও খুনের সাথে জড়িত থেকে সংসদে যেতে চান, তারা জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন না। একজন জনপ্রতিনিধির কাজ মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মান রক্ষা করা, তা হরণ করা নয়।’

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম, ময়মনসিংহ

Location :

Mymensingh
কথা বলছেন জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান
কথা বলছেন জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘সরকার জনগণকে দেয়া অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে। জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ে এক চুলও ছাড় দেয়া হবে না। এ লক্ষ্যে সংসদের ভেতরে ও বাইরে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখা হবে।’

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, জালিয়াতি ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসঙ্কেত। জনগণের ভোট ও মতামত উপেক্ষা করে একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। বিরোধী মত দমনে নানা ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।’

শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনী সহিংসতায় আহত নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘গত ৯ এপ্রিল শেরপুর ও বগুড়ায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জনগণ একটি সুষ্ঠু পরিবেশ প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু বাস্তবে সেখানে অনিয়ম, কারচুপি ও সহিংসতা ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং অনেক ক্ষেত্রে তা সন্ত্রাসে রূপ নেয়।’

তিনি বলেন, ‘শেরপুর-৩ আসনে এর আগেও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমকে হত্যা করা হয়। এ সময় আরো তিনজন গুরুতর আহত হন, যারা এখনো চিকিৎসাধীন। ওই সহিংসতার কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরে পুনঃনির্ধারিত নির্বাচনেও একজন নিহত এবং এক বয়স্ক ব্যক্তিকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনা ঘটে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশের রাজনীতিতে অতীতেও সহিংসতা ছিল, তবে সাম্প্রতিক রক্তপাত অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি প্রশ্ন রাখেন, আর কত রক্ত দিতে হবে? তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজনীতিতে সুস্থতা ফিরে আসবে এবং তা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার ভিত্তিতে গড়ে উঠবে।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘রাজনীতি হবে আদর্শের লড়াই, অস্ত্রের নয়। মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু তা প্রকাশ পাবে ভদ্র ভাষায়, সহিংসতায় নয়।’

সংসদের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত সংসদে সময়ের অপচয় বা অশালীন আচরণ কাম্য নয়। অতীতে সংসদে জনকল্যাণের চেয়ে চরিত্র হননে বেশি সময় ব্যয় হয়েছে। প্রতি মুহূর্তে বিপুল অর্থ ব্যয় হয় সংসদ পরিচালনায়। এই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’

তিনি আরো বলেন, ‘যারা সহিংসতা ও খুনের সাথে জড়িত থেকে সংসদে যেতে চান, তারা জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন না। একজন জনপ্রতিনিধির কাজ মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মান রক্ষা করা, তা হরণ করা নয়।’

ভবিষ্যৎ নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচনই মূল ভিত্তি। তাই ভবিষ্যতে যেন কোনো সহিংসতা না ঘটে, কোনো মা সন্তানহারা না হন, কোনো নারী বিধবা না হন এবং কোনো শিশু এতিম না হয়— এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকা উচিত। আমরা চাই আদর্শের লড়াই হোক, হাত বা অস্ত্রের লড়াই নয়।’

পরে জামায়াত আমির আহত নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একইসাথে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল করিম, জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।