ময়মনসিংহে হামে আরো দুই শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ২৬

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে হাসপাতালে হামে শিশুর মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২ জনে। একই সময়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছে আরো ২৬ শিশু।

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম, ময়মনসিংহ

Location :

Mymensingh
হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড
হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড |নয়া দিগন্ত

ময়মনসিংহে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক মাত্রা ছাড়িয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। এরই মধ্যে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে হাসপাতালে হামে শিশুর মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২ জনে। একই সময়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছে আরো ২৬ শিশু। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭৩ শিশু।

রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে মমেক হাসপাতালের হাম মেডিক্যাল দলের ফোকাল পারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা: মো: গোলাম মাওলা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ১২ এপ্রিল রাত ১০টার পর ফুলপুর থেকে নয় মাস বয়সী এক শিশুকে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে হার্ট ফেইলিউর ও নিউমোনিয়াসহ সন্দেহভাজন হামে শিশুটির মৃত্যু হয়।

এর আগে, ১১ এপ্রিল সকালে গৌরীপুর থেকে ১০ মাস বয়সী আরেক শিশুকে ভর্তি করা হয়। নিউমোনিয়াসহ হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত ১১টার দিকে তারও মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩৯৭ শিশু ভর্তি হয়েছে। এরমধ্যে ৩১২ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্র পেয়েছে আরো ২৮ শিশু। তবে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না, এ পর্যন্ত ১২টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- হাসপাতালে আইসিইউ ওয়ার্ড প্রস্তুত থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবলের অভাবে সেটি চালু করা হয়নি। ফলে গুরুতর অসুস্থ শিশুদের উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে।

বর্তমানে আইসিইউ সুবিধা না থাকায় হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডেই বাবল সিপ্যাপ পদ্ধতিতে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা: মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, ‘তিনটি মেডিক্যাল টিম গঠন করে চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আইসিইউ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবলের চাহিদা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুদের অক্সিজেন ও বাবল সিপ্যাপ দিয়ে সাপোর্ট দেয়া হচ্ছে। অনেক সময় সিলিন্ডার অক্সিজেন কার্যকর না হওয়ায় বিকল্প হিসেবে বাবল সিপ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে।’

এদিকে, আইসিইউ চালু না থাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে অভিভাবকদের মধ্যে। তাদের প্রশ্ন- প্রস্তুত আইসিইউ কেন চালু করা যাচ্ছে না, আর কত প্রাণ গেলে নড়বে কর্তৃপক্ষ?

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। এখনই জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউ চালু, পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।