ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘ইজারার নামে কোনো চাঁদাবাজি হতে দেয়া হবে না। সাধারণ মানুষের দুঃখকষ্ট বুঝতে হবে। বিগত সরকারের আমলে টোল ও ইজারার নামে সড়কে ব্যাপক হয়রানি হয়েছে। বিশেষ করে অটোচালক ও ভ্যানচালকদের কাছ থেকেও জোরপূর্বক টাকা আদায় করা হতো, যা ছিল অত্যন্ত অমানবিক।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহযোগিতায় এসব টোল আদায় বন্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু এ বছর আবার টোল আদায়ের জন্য ইজারা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানতে পেরেছি, যা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।’
তিনি নগরকান্দার সাধারণ মানুষের পক্ষে সব ধরনের যানবাহনের ওপর টোল আরোপের বিরোধিতা করেন এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়ার কথাও জানান।
একই বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফ বলেন, ‘নগরকান্দা পৌর এলাকায় টোলের নামে কোনো চাঁদাবাজি হতে দেয়া হবে না। গত বছর এই টোল আদায় বন্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু এ বছর আবার সড়কে টোল আদায়ের জন্য দরপত্র প্রকাশের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে, যা জনস্বার্থের পরিপন্থী।’
তিনি আরো দাবি করেন, ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকুর পক্ষ থেকেও টোলের নামে চাঁদাবাজি বন্ধ রাখার নির্দেশনা রয়েছে। তাই এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে দ্রুত টোল আদায়ের পরিকল্পনা বাতিল করার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে বিষয়টি জানতে নগরকান্দা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজা হক তানিয়ার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে, নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহরাজ শারবীন বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। পৌরসভা প্রশাসকের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টোলের নামে অতীতে বিভিন্ন সময়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। তাই পুনরায় এমন উদ্যোগ বন্ধ করে জনবান্ধব সিদ্ধান্ত নেয়ার দাবি জানান তারা।



