আবু সাঈদ হত্যা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে বেরোবিতে মানববন্ধন

পুলিশ কর্মকর্তা ইমরানকে সাক্ষী নয়, আসামি করার দাবি

সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ।

সরকার মাজহারুল মান্নান, রংপুর ব্যুরো

Location :

Rangpur
মানববন্ধন
মানববন্ধন |নয়া দিগন্ত

জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি এবং পুলিশ কর্মকর্তা ইমরানকে সাক্ষী না করে চার্জশিটভুক্ত আসামি করার দাবিতে মানবন্ধন করেছেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধনে অংশ নেন শিক্ষার্থী ও সাবেক সমন্বয়করা। সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ। বক্তব্য রাখেন আবু সাঈদের সহযোদ্ধা জুলাই বিপ্লবে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক এস এম আশিকুর রহমান, রহমত আলী, শামসুর রহমান সুমন, রোবায়েত হাসান খোকন ইসলাম, মাহিদ হাসান শাকীল, আরমান হোসেন প্রমুখ।

পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন বড় ভাই আবু হাসান, ছোট বোন সুমি বেগম। বক্তব্য দিতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। এসময় শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার অগ্রগতি ও কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন সমন্বয়ক ও পরিবারের সদস্যরা।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থী সাইমা বেগম বলেন, ‘পুরো বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্ব দেখেছে কিভাবে আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। দ্রুত গতিতে এই মামলার বিচার কার্যক্রম নিষ্পত্তি করতে হবে।’

জুলাই বিপ্লবের আরেক সমন্বয়ক মাহিদ হাসান শাকিল অভিযোগ করে বলেন, ‘এসি ইমরানকে আসামি থেকে সাক্ষী বানানোর বিষয়টি নিয়ে নানা কথা হচ্ছে। এসি ইমরান ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটের সামনে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। তিনি নিজহাতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছেন। সেখানে তিনজন অফিসারের হাতে ওয়াকিটকি ছিল। তার মধ্যে এসি ইমরান একজন। তার সামনে থেকে এসেই এসআই আমীর আলী ও কনেস্টবল সুজন চন্দ্র আবু সাঈদকে লক্ষ করে গুলি করেছিলেন। এসব তথ্য আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালকে দিলেও তারা আমলে নেয়নি। পরবর্তী সময়ে কিভাবে এজাহারভুক্ত আসামি চার্জশিটভুক্ত না হয়ে সাক্ষীর কাতারে চলে যায়, সেটা জানতে হবে। দ্রুত বিচারের রায় প্রকাশ না করলে আবু সাঈদের সহযোদ্ধারা আবারো মাঠে নামতে বাধ্য হবে।’

আবু সাঈদের বোন সুমি বেগম বলেন, ‘আজকে আমার ভাই হত্যার দেড় বছর পার হলেও আমাদেরকে বিচারের জন্য রাস্তায় দাঁড়াতে হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য লজ্জার। আমরা চাই আমার ভাই হত্যা মামলার বিচারের যেন দ্রুত রায় দেয়া হয়। এই হত্যার সাথে যারা জড়িত তারা যেন কেউ পার না পায়, এটা আমাদের পরিবারের চাওয়া, পরিবারের দাবি।’

আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হাসান বলেন, ‘দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও আমার ছোট ভাই হত্যার বিচার আমরা এখনো পাই না। যার আত্মত্যাগের কারণে আজকে বাংলাদেশের এতবড় পরিবর্তন। পুলিশের নেতৃত্বে এই হত্যাকাণ্ড। কিন্তু এসি ইমরানকে চার্জশিটে নাম না দিয়ে সাক্ষী বানানো হয়েছে। আমরা চাতক পাখির মতো পথ চেয়ে আছি। আমরা যেন ন্যায়বিচারটা পাই। এখন নতুন নির্বাচিত সরকার এসেছে। আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে রায় প্রদান ও কার্যকর করা হয়।’

সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, ‘আবু সাঈদসহ সকল শহীদদের মামলার বিচার কার্জে অনিহার বিষয়টি দুরভীসন্ধিমূলক কিনা তা খতিয়ে দেখে দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি করতে হবে। অন্তর্বর্তীসরকার বলেন আর বর্তমান সরকার বলেন, সব কিছুর মূলই হলো আবু সাঈদের জীবন দানের মধ্যে দিয়ে। সুতরাং আবু সাঈদ হত্যা মামলার যদি দ্রুত নিষ্পত্তি করা না হয় তাহলে শুধু আবু সাঈদ নয় জুলাই বিপ্লবের সাথে গাদ্দারি করা হবে। একটা প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ড। সেই হত্যাকাণ্ডের বিচারটা যদি ১৮ মাস ঝুলে তাকে। তাহলে কোনো দুরভীসন্ধি আছে কিনা দেখার বিষয়। শুধু আবু সাঈদ নয়, হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়েও তেমন কোনো কথাবার্তা হচ্ছে না। জুলাই শহীদদের ব্যাপারে কেন এত অনিহা। অথচ তাদের রক্তের বিনিময়ে আপনারা সবাই ক্ষমতায় এসেছেন। আমরা চাই সাঈদসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার দূত করা হোক। স্বচ্ছতার রায় চাই। বাংলাদেশের মানুষ জুলাইয়ে জাস্টিস চায়।’

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। এরপর আন্দোলন দানাবেঁধে উঠে। আন্দোলন পরিণত হয় সরকারবিরোধী এক দফায় ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর এ ঘটনায় মামলা করেন আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী। পরে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ টাইব্যুনালে যায়। সেখানে ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এরমধ্যে এসআই আমীর হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, তৎকালীন প্রক্টর শরীফুল ইসলাম ছাত্রলীগের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী আকাশ গ্রেফতার আছেন। পলাতকদের বিরুদ্ধে আছে গ্রেফতারী পরোয়ানা। এখনো সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে মামলাটির।