ডা: শফিকুর রহমান

আমি কৃষকের সন্তান, সাধারণ মানুষকে নিয়েই আমাদের রাজনীতি

রোববার সকাল ১০টায় স্পিড বোটে করে ও পরে হেঁটে শাহ আলম ভূঁইয়ার গ্রামের বাড়িতে যান জামায়াত আমির। তিনি প্রথম মরহুমের কবর জিয়ারত করেন, পরে পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন।

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

Location :

Kishoreganj
বক্তব্য রাখছেন জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান
বক্তব্য রাখছেন জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমি ধনী মানুষের ঘরে জন্ম নেইনি। আমি কৃষকের সন্তান। সুতরাং আমি সাধারণ মানুষকে শ্রদ্ধার সাথে বুকে ধারণ করি। যদি কৃষক-শ্রমিকদের শ্রদ্ধার সাথে ধারণ না করি, আমার বাবাকে আমার অপমান করা হবে। আমাদের রাজনীতিই সাধারণ মানুষকে নিয়ে।’

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার শিমুলবাক গ্রামে জামায়াতের রিকশাচালক কর্মী মরহুম শাহ আলম ভূঁইয়ার পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, ‘এবার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে গিয়ে আমি অনেক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি। শ্রমিক, কৃষক সাধারণ মানুষেরা আমাকে জড়িয়ে ধরেছেন। আমার নিজ নির্বাচনী ঢাকা-১৫ এলাকায় মাঝেমধ্যে যখন যেতাম, ছোট বাচ্চারা দৌঁড়িয়ে এসেছে। ওরা আমার পিঠে ঝুলেছে, গলায় ঝুলেছে, কাঁধে চড়েছে। আমার ভীষণ ভালো লেগেছে ওই দৃশ্যগুলো। শেষ পর্যন্ত সবাই মিলে ওরা আমাকে ‘দাদু’ খেতাব দিয়ে দিছে।’

শাহ আলম ভূঁইয়ার স্মৃতিচারণ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘একদিন আমার নির্বাচনীয় আসন ঢাকা-১৫ এর কাফরুল এলাকায় আমি ক্যাম্পেইন করছিলাম, পাশে কয়েকটা রিকশা সারি সারি দাঁড়ানো। মানুষের সাথে হাত মিলাচ্ছি, সালাম দিচ্ছি। হঠাৎ করে রিকশার হাতল ছেড়ে আমার বুকের ভেতরে ঝুঁকে গেলেন এক লোক। আমিও তাকে জড়িয়ে ধরে রাখলাম। তারপর বললাম আসেন। কয়েক দিন পর শুনলাম তিনি ইটনায় গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন জামায়াতের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা করার জন্য। এ সময় হার্টের স্ট্রোকে তিনি মারা যান।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘দুই শ্রেণীর মানুষের সাথে মিশে দারুণ আনন্দ পাই। এক. ছোট বাচ্চারা। ওরা নিষ্পাপ। ওদের কোনো গুনাহ নেই। ওরা কাছে এলে মনে হয় আমি ফেরেশতাদের সাথে আছি। আরেকদল লোক কঠোর পরিশ্রম করে। দিন আনে দিন খায়। রক্ত পানি করে ঘাম ঝরায় পরিবারের মুখে হালাল খাবার তুলে দেয়ার জন্য। অনেক সময় সাদা ভদ্রলোক নামধারী লোকেরা একটু তাদেরকে এড়িয়ে চলে। তাদের গায়ের গন্ধ লেগে যায় কি না। তাদের গায়ে তো ঘাম লেগে থাকে। আমার কাছে এইটা ঘাম না। শতভাগ হালাল রুজির মানুষের গায়ের ঘাম আমার কাছে আতর।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমি আজকে আমার ভাইয়ের পরিবারের কাছে এসেছি। তিনি আমাদের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন। অতি সাধারণ মানুষ ছিলেন। ঢাকায় রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন। তাকে সম্মান করা, তার পরিবারের খোঁজ-খবর নেয়া আমার ঈমানের অংশ, আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’

এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘বিশাল হাওর আপনাদের সামনে। হাওর পাড়ের মানুষের মন বড় হয় এটা আমি জানি। প্রকৃতির সাথে আপনারা বেড়ে ওঠেন। এই বড় মনের মানুষগুলোর কাছে ছোট্ট একটা অনুরোধ থাকবে আমার, এই পরিবারটাকে আপনারা দেখে রাখবেন।’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ইটনায় একটি নির্বাচনী জনসভায় যাওয়ার পথে নৌকায় স্ট্রোক করে মারা যান শাহ আলম ভূঁইয়া (৫০)।

রোববার সকাল ১০টায় স্পিড বোটে করে ও পরে হেঁটে শাহ আলম ভূঁইয়ার গ্রামের বাড়িতে যান জামায়াত আমির। তিনি প্রথম মরহুমের কবর জিয়ারত করেন, পরে পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন।

এ সময় জামায়াত আমির দলের পক্ষ থেকে শাহ আলমের পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন। এছাড়াও শাহ আলমের অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই মেয়ের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত পড়ালেখা থেকে শুরু করে সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি যতদিন সংগঠনের দায়িত্বে আছি, ততদিন এই দায়িত্ব পালন করব। ভবিষ্যতে যারা দায়িত্বে আসবেন, তারাও তা পালন করবেন বলে আশা রাখি।’

পরে জামায়াত আমির কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত জামায়াত আমিরের নির্বাচনি জনসভা থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত জামায়াতের কর্মী মরহুম আব্দুস ছালামের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করতে নিকলী উপজেলার ছাতিরচরে গ্রামে যান।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত ওই নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. শফিকুর রহমান।

ইটনা ও নিকলীতে জামায়াত আমিরের সাথে ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ময়মনসিংহ অঞ্চল পরিচালক ড. ছামিউল হক ফারুকী ও কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক রমজান আলী, কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা মিঠামইন অষ্টগ্রাম) আসনের জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট রুকন রেজা শেখ, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নাজমুল ইসলাম এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ।