নিখোঁজের ১০ বছর, শাহজাহানের বাড়ি ফেরার আশায় প্রহর গুনছে পরিবার

‘বাড়ি থেকে শহরের উদ্দেশে গেল, পরদিন চলে আসার কথা। কিন্তু ১০টি বছর পার হয়ে গেল, এখনো ফিরে আসেনি। আমি ছেলে-মেয়েকে নিয়ে অনেক কষ্টে রয়েছি। তিনি কি বেঁচে আছেন, না মারা গেছেন সেটাও বুঝতেছি না। এখনো আমার স্বামী আসবে এই আশায় বসে আছি।’

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

Location :

Mirsharai
১০ বছর ধরে নিখোঁজ মিরসরাইয়ের শাহজাহান সিরাজ প্রকাশ বাহার
১০ বছর ধরে নিখোঁজ মিরসরাইয়ের শাহজাহান সিরাজ প্রকাশ বাহার |নয়া দিগন্ত

নিখোঁজ হওয়ার ১০ বছর পার হলেও এখনো বাড়ি ফিরে আসবেন এমন আশায় দিন কাটছে মিরসরাইয়ের শাহজাহান সিরাজ প্রকাশ বাহারের পরিবারের। রহস্যজনকভাবে নিখোঁজের পর থেকে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

নিখোঁজ শাহজাহান সিরাজ চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ৬ নম্বর ইছাখালী ইউনিয়নের চুনিমিঝির টেক এলাকার বাসিন্দা শাহ আলম মাস্টার বাড়ির মরহুম শাহ আলম মাস্টারের বড় ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২০ জুলাই শাহজাহান সিরাজ তার অসুস্থ চাচাকে দেখতে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। পরদিন ২১ জুলাই সকাল ৮টার দিকে শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে মোবাইলফোনে নিজের মা জাহানারা বেগমের সাথে কথা বলেন। সেটিই ছিল পরিবারের সাথে তার শেষ যোগাযোগ। এরপর থেকে তার সাথে পরিবারের সবধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

একদিন দুইদিন, এক সপ্তাহ, দুই সপ্তাহ করে প্রথম ৬ মাস আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের মাধ্যমে অনেক খোঁজাখুঁজি করা হলেও কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে একই বছরের ৬ ডিসেম্বর জোরারগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। ডায়েরি নম্বর ২২৩।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিখোঁজ শাহজাহান সিরাজ বাহারের পরিবারে রয়েছেন তার বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান। ছেলের ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন অসহায় মা। অন্যদিকে এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে স্বামীর সন্ধানে এখনো দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তার স্ত্রী হ্যাপি আক্তার।

শাহজাহান সিরাজের স্ত্রী হ্যাপি আক্তার বলেন, ‘বাড়ি থেকে শহরের উদ্দেশে গেল, পরদিন চলে আসার কথা। কিন্তু ১০টি বছর পার হয়ে গেল, এখনো ফিরে আসেনি। আমি ছেলে-মেয়েকে নিয়ে অনেক কষ্টে রয়েছি। তিনি কি বেঁচে আছেন, না মারা গেছেন সেটাও বুঝতেছি না। এখনো আমার স্বামী আসবে এই আশায় বসে আছি।’

শাহজাহান সিরাজারে প্রতিবেশী শেখ ফরিদ গাজী বলেন, ‘শাহজাহান রাজনৈতিকভাবে বিএনপির সাথে যুক্ত ছিলেন। তবে রাজনীতির কোনো অপব্যবহারের সাথে তিনি জড়িত ছিলেন না। বরং সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। এতটা বছর কোথায় আছেন? কেমন আছেন? আল্লাহ ভালো জানেন।’

এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক বলেন, ‘অনেক আগের জিডি। খোঁজখবর নিয়ে দেখছি কোন পর্যায়ে রয়েছে।’