ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ১৯টি সংসদীয় আসনের ১৮টিতেই জয় পেয়েছে বিএনপি। আর জামায়াত জোটের শরিক খেলাফত মজলিস ১টি আসন য়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামী একটি আসনও পায়নি। সিলেট বিভাগে বিএনপির একক আধিপত্যে খুশি দলের নেতাকর্মীরা।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি ভূমিধস বিজয় লাভ করায় এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ গঠনের জল্পনা কল্পনা শুরু হয়েছে। সিলেটে বিএনপির বিপুল বিজয়ে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় কারা থাকতে পারেন এ নিয়ে আলোচনা ও জল্পনা কল্পনাও শুরু হয়েছে।
তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় সিলেটের খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, হবিগঞ্জের ড. রেজা কিবরিয়া ও তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সিলেটের ড. হুমায়ুন কবির (টেকনোক্রেট) স্থান পেতে যাচ্ছেন বলে দলের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই তিনজন ছাড়াও আরো ২/১ জন মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার জল্পনা কল্পনাও চলছে।
ড. হুমায়ুন কবিরকে সিলেট-২ আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন দেন তারেক রহমান। তবে এই আসনে ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদির লুনাকে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন দেয়া হয় এবং তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন ।
মর্যাদার আসন বলে অভিহিত সিলেট-১ আসনে যে দল বিজয় লাভ করে সেই দলই সরকার গঠন করে এমন একটা মিথ চালু আছে স্বাধীনতার পর থেকে। এবারো এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। বিএনপি চেয়ারম্যানে উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সিলেট-১ আসনে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
অতীতে এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান লাভ করেছেন বিএনপির এম, সাইফুর রহমান, আওয়ামী লীগের আবদুস সামাদ আজাদ, দেওয়ান ফরিদ গাজী, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী এবং আওয়ামী লীগের আবুল মাল আবদুল মুহিত ও ড: এ কে আবদুল মোমেন।
এবারের নির্বাচনে সিলেট-১ থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য খন্দকার আবদুল মুক্তাদির মন্ত্রী পরিষদে গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান লাভ করতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে সিলেট-৪ আসন থেকে নির্বাচিত সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীও মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে জোর লবিং করছেন। তবে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির মন্ত্রী পরিষদে স্থান পেলে আরিফুল হক চৌধুরীর সম্ভাবনা একেবারে কমে যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
হবিগঞ্জ -১ (নবীগঞ্জ ও বাহুবল) আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপিতে নবাগত ও গণফোরামের সাবেক নেতা, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড: রেজা কিবরিয়া মন্ত্রিসভায় স্থান পাচ্ছেন এটা এক ধরনের নিশ্চিত বলে জানা গেছে। তাকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে।
এছাড়াও সিলেট বিভাগ থেকে হবিগঞ্জের বিএনপি নেতা ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, সুনামগঞ্জের কলিমউদ্দিন মিলন মৌলভীবাজারের এম, সাইফুর রহমানের ছেলে এম, নাসের রহমানের নামও জল্পনা কল্পনায় রয়েছে বলে মনে করছেন বিএনপির একটি সূত্র।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভায় কে থাকবেন না থাকবেন তা একান্তভাবে নির্ভর করছে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর।
এদিকে, বেসরকারি ফলাফলে সিলেট বিভাগের ১৮ টি আসনেই জয় পেয়েছে বিএনপি।
সিলেট জেলার ৬টি আসনের মধ্যে ৫টিতে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। এর মধ্যে সিলেট-১ আসনে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদীর লুনা, সিলেট-৩ আসনে বিএনপির এম এ মালিক, সিলেট-৪ আসনে আরিফুল হক চৌধুরী ও সিলেট-৬ আসনে এমরান আহমদ চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। সিলেট-৫ আসনে ১১ দলীয় জোটের শরীক খেলাফত মজলিসের মুফতি আবুল হাসান বিজয়ী হয়েছেন।
মৌলভীবাজারেরও সবকটি আসনে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি। মৌলভীবাজার-১ আসনে নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠু, মৌলভীবাজার-২ আসনে শওকতুল ইসলাম শকু, মৌলভীবাজার-৩ আসনে এম. নাসের রহমান ও মৌলভীবাজার-৪ আসনে মুজিবুর রহমান চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন।
সুনামগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনের সবকটিতে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বিএনপি। সুনামগঞ্জ-১ আসনে কামরুজ্জামান কামরুল, সুনামগঞ্জ-২ আসনে নাসির উদ্দিন চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে কয়ছর এম আহমদ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে নুরুল ইসলাম নুরুল ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনে কলিম উদ্দিন মিলন বিজয়ী হয়েছেন।
হবিগঞ্জ জেলার সংসদীয় ৪টি আসনের সবকটিতে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি। হবিগঞ্জ-১ আসনে ড. রেজা কিবরিয়া, হবিগঞ্জ-২ আসনে ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, হবিগঞ্জ-৩ আসনে জি কে গউছ ও হবিগঞ্জ-৪ আসনে এসএম ফয়সল বিজয়ী হয়েছেন।



