দ্বীপ জেলা ভোলার লালমোহনে হঠাৎ করেই পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। উপজেলার একমাত্র ফিলিং স্টেশনে ( সাউদিয়া ফিলিং স্টেশন) জ্বালানি না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকসহ সাধারণ যানবাহন ব্যবহারকারীরা। প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে গিয়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে পাম্প থেকে পেট্রোল - অকটেন না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে দেখা গিয়েছে।
২৫ ও ২৬ মার্চ সকাল থেকে ফিলিং স্টেশন সহ উপজেলা সদর এবং বিভিন্ন বাজারে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, অন্তত শতাধিক স্পট এবং বড় ছোট বাজারে এবং ১টি ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
লালমোহন উপজেলার সাউদিয়া ফিলিং স্টেশন খোলা রেখে পেট্রোল ও অকটেন নেই মর্মে বড় অক্ষরে লিখে স্টিকার সাঁটিয়ে রাখা হয়েছে, পাম্প খোলা থাকলে ও জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে না। এতে করে কর্মজীবী মানুষ, ডেলিভারি রাইডার এবং দৈনন্দিন যাতায়াতে মোটরসাইকেল, সিএনজির ওপর নির্ভরশীলদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালকরা, সকাল থেকে বিভিন্ন জ্বালানি তেলের দোকান এবং পাম্প ঘুরেও তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। ২৪মার্চ সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও অনেকে পেট্রোল ও অকটেন না পেয়ে ফিরে গিয়েছেন বলে জানান।
তবে পাম্প মালিকদের বক্তব্য ভিন্ন, তাদের দাবি, চাহিদার তুলনায় জ্বালানির সরবরাহ অনেক কমে যাওয়ায় এই সঙ্কট তৈরি হয়েছে।
লালমোহনের সাউদিয়া ফিলিং স্টেশনের মালিক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস বলেন, জ্বালানি তেল বিক্রি আমাদের একধরনের সেবা মুলক হয়ে গিয়েছে। আমাদের তেল আনার গাড়ি ছোট হওয়ায় ( ৯০০০) নয় হাজার লিটার জ্বালানি তেল আমরা প্রতি সিপটে পাম্পে এনে থাকি। আমরা সরকারি রেটে পেট্রোল অকটেন বিক্রি করছি। দোকানে সরবরাহ কম থাকায় পাম্পেই মুলত চাপ বাড়ছে । কিন্তু হঠাৎ করে গ্রাহকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবে হঠাৎ গ্রাহক বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
অন্যদিকে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে, কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে জ্বালানি মজুত রাখা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই প্রশাসনের তদারকি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলার বৃহৎ জ্বালানি তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ফুলবাগিছা স্টোর সহ কয়েকটি দোকান থেকে মটরসাইকেল সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহন চালকরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে অসহ্য ভোগান্তির পর কারও কারও ভাগ্যে গাড়ি প্রতি ১ লিটার করে জ্বালানি জোটে।
রমাগঞ্জের মটরসাইকেল চালক মোঃ শিহাব,আব্দুল হান্নান,মোঃ জাবের, মোঃ আব্বাস উদ্দীন, ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের সিএনজি চালক মো: আরিফ, মিজান মটর সাইকেল চালক , আবুল বাসার, চরভূতা ইউনিয়নের আব্দুল করিম ও মোঃ শাকিল প্রমুখ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা পাম্পে গিয়ে তেল পাইনা অথচ বিভিন্ন বাজারের তেলের দোকান মালীকরা চওড়া দামে ১১৯ টাকার পেট্রোল ২৫০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।
মো: কবির নামের এক মটরসাইকেল চালক বলেন, জ্বালানি তেলের দোকানে গিয়ে পেট্রোল চাইলে প্রথমে পেট্রোল নেই বললেও পরে ১১৯ টাকার পেট্রোল ২৫০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে আমাদের।
তিনি আরও বলেন, আমরা গরীব মানুষ মটর সাইকেল চালিয়ে যাত্রী বহন করে (ভাড়া টেনে) বাবা মা ও স্ত্রী সন্তানসহ স্বজনদের নিয়ে মোটামুটি সংসার চালাচ্ছি। সারাদিন মটর সাইকেল চালিয়ে কোন দিন ৪শ থেকে ৫ শ’ টাকা আবার তার চেয়ে কম বা বেশি পেয়ে থাকি । অথচ ১ লিটার পেট্রোল যদি ২৫০ বা ৩০০ টাকা দিয়ে কিনতে হয় তাহলে আমাদের আর সারাদিন খেটে লাভ কি? আমাদের ভাগ্যে পাম্পের পেট্রোল জোটে না।
প্রশাসনের নিকট যানবাহন চালকদের দাবি তারা যেন প্রতিদিন কমপক্ষে একবার উপজেলার প্রতিটি বাজারের জ্বালানি তেলের দোকানে অভিযান পরিচালনা করেন।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: রেজওয়ানুল হক বলেন, দোকানে সরবরাহ কম থাকায় , গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে ফিলিং স্টেশনে ,আমাদের নজর দারি রয়েছে যানবাহন চালকরা যেন ভোগান্তির শিকার না হয়। সকল গ্রাহকদের মাঝে সমহারে বিক্রির নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, উপজেলা সদর সহ বিভিন্ন বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আমাদের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি রয়েছে।



