ঈদ মানেই আনন্দ, নতুন পোশাক, পরিবার-পরিজনের সাথে হাসি-খুশির সময়। কিন্তু সেই আনন্দ সবার জীবনে সমানভাবে ধরা দেয় না। কিছু শিশু আছে, যাদের ঈদ মানে নিঃশব্দ অপেক্ষা মা-বাবার স্নেহহীন এক শূন্যতা। তবু সেই শূন্যতার মাঝেই ছোট ছোট আনন্দ খুঁজে নেয় তারা। চুয়াডাঙ্গা সরকারি শিশু পরিবারের শিশুদের জন্য এবারের ঈদ ছিল তেমনই এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার।
শনিবার ঈদের দিন দুপুরে সেখানে গিয়ে সস্ত্রীক শিশুদের পাশে দাঁড়ান চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। আনুষ্ঠানিকতা নয়, মানবিক স্পর্শ নিয়েই তিনি সময় কাটান তাদের সাথে। শিশুদের হাতে তুলে দেন নতুন উপহার, আয়োজন ছিলো উন্নত খাবারেরও।
এর আগে রোজার মধ্যেই নতুন জামা পেয়ে শিশুরা যেন আগেভাগেই ঈদের আনন্দ ছুঁয়ে ফেলে। আজ তাই সেই নতুন ছোট ছোট মুখে ফুটে ওঠে হাসি। কিছুক্ষণের জন্য হলেও তারা ভুলে যায় জীবনের অপূর্ণতা।
দুপুর গড়াতেই সবাই একসাথে বসে পোলাও-গোশতসহ নানা খাবার খায়। ছিল না কোনো ভেদাভেদ।
শিশু পরিবারের কয়েকজন শিশু জানায়, নতুন পোশাক পরে তারা আনন্দ করেছে, ভালো খাবার খেয়েছে। তবু ঈদের দিনে বাবা-মায়ের কথা মনে পড়েছে বারবার।
তারা বলে, আমরা খুশি। নতুন জামা পেয়েছি, ভালো খেতে পেরেছি, ঈদ সেলামিও পেয়েছি। কিন্তু মা-বাবা থাকলে আরো ভালো লাগত।
চুয়াডাঙ্গা সমাজ সেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো: আইনাল হক জানান, বিশেষ দিনগুলোতে শিশুদের জন্য বাড়তি খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। তবে এভাবে কাছে এসে সময় দেয়াটা তাদের জন্য আলাদা এক আনন্দ তৈরি করেছে।
তিনি আরো বলেন, এই বাচ্চাগুলো তো আমাদেরই বাচ্চা। সমাজের আর দশটা বাচ্চার মতো। এরাও সুন্দরভাবে যেন বাচতে পারে, তাদের জীবন যেন বিচ্ছিন্ন না হয়। তারা যেন কখনো বোধ না করে আমরা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন। তাদেরকে সেই পরিবেশে সেই আবহে এখানে লালন-পালন করা হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর। সবার জন্য আনন্দ-খুশির দিন। কিন্তু এই আনন্দের মধ্যেও সবার জীবনে আনন্দ আসে না। বিশেষ করে যারা জেলখানায় আছে, হাসপাতালে ভর্তি আছে। এ ছাড়া আমরা যেখানে এসেছি, অর্থাৎ এই শিশু পরিবারে। কারণ এখানে অনেক এতিম ও দুস্থ বাচ্চা আছে। তাই আজকে এই খুশির দিনে তাদের সাথে আমরা আনন্দ ভাগাভাগি করবার জন্য এসেছি।
তিনি আরো বলেন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি শিশু পরিবার কর্তৃপক্ষ এতিম শিশুদের ভালোভাবে দেখভাল করছে। এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, সেই প্রত্যাশা করি। সবাইকে ঈদ মোবারক।
এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, শিশু পরিবারের তত্ত্বাবধায়ক রোম্মানা বিলকিসসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।



