ভোলার মেঘনা নদীর মঙল সিকদার ঘাটে অবস্থানরত কর্ণফুলী-১২ নামে একটি লঞ্চের সাথে ধাক্কা লেগে মৎস্য বিভাগের একটি স্পিডবোট ডুবে গেছে। এতে মো: ফখরুল নামে এক পুলিশ সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া স্পিডবোটে থাকা আরো ছয়জন আহত হন।
গতকাল বুধবার (১৮ মার্চ) রাত ১০টার দিকে উপজেলার মঙ্গল সিকদার লঞ্চঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ ফখরুল লালমোহনের মঙ্গলবার সিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানায় বলে জানা গেছে।
আহতরা হলেন লালমোহন উপজেলা মৎস্য বিভাগের অফিস সহকারী আব্বাছ উদ্দিন, ক্ষেত্র সহকারী মনোয়ার হোসেন ও সাইফুল ইসলাম সোহাগ, স্পিড বোর্ডের চালক ইয়ামিনসহ দুই পুলিশ কনস্টেবল।
আহত স্পিডবোটের চালক ইয়ামিনকে তজুমদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাতেই তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অন্যদের লালমোহনের বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায়, ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার ঘোষিত মেঘনা তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরার উপর দু’মাসের নিষেধাজ্ঞা চলমান রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মঙ্গল সিকদার ঘাট-সংলগ্ন মেঘনা নদীতে মৎস্য বিভাগের সাথে নদীতে অভিযান পরিচালনা করছিলেন পুলিশ সদস্যরা। এ সময় হঠাৎ অভিযানকারী দলের স্পিড বোর্ডটি বিকল হয়ে নদীতে ভাসতে থাকে।
অন্যদিকে ঢাকা থেকে চরফ্যাশনের বেতুয়া ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসা এমভি কর্ণফুলী-১২ লঞ্চটি মঙ্গল সিকদার ঘাটে যাত্রী নামাচ্ছিল। একপর্যায়ে স্পিডবোর্টটি স্রোতের ঢেউয়ের সাথে ভাসতে ভাসতে লঞ্চের কাছে চলে আসে। লঞ্চের সাথে ধাক্কার লাগার মুহূর্তে স্পিডবোটে থাকা পুলিশ সদস্য ও মৎস্য বিভাগের লোকজন একপাশে সড়ে এসে স্পিডবোটকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু লঞ্চের সাথে ধাক্কা লেগে সেটি উল্টে যায়। পরে পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের অন্য সদস্যরা সাঁতরে তীরে উঠলেও নিখোঁজ হন ফখরুল।
কর্ণফুলী-১২ লঞ্চের কন্টোল রুমের দায়িত্বে থাকা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের লঞ্চটি মঙ্গল সিকদার ঘাটে যাত্রী নামানোর কাজ চলমান এ সময় একটি স্পিডবোট নদীর মাঝ থেকে লঞ্চটির কাছাকাছি এলে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। নদীতে ঢেউয়ের চাপে সেটি লঞ্চের নিচে ডুকে যায়। সাইড থেকে দুর্ঘটনা হওয়ায় আমরা কিছু বলতে পারি না।’
লালমোহন থানার ডিওটি অফিসার বলেন, ‘দুর্ঘটনায় নিখোঁজ পুলিশ কনস্টেবল ফখরুলের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। তার সন্ধানে নদীতে উদ্ধার অভিযান চলছে। আমরা মূলত এখন তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি। এ ঘটনায় পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



