রাজশাহী সিটির প্রশাসক পদে রিটন : রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা

রোববার (১৫ মার্চ) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে রাসিকের প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন মাহফুজুর রহমান রিটন।

আব্দুল আউয়াল, রাজশাহী ব্যুরো

Location :

Rajshahi City
মাহফুজুর রহমান রিটন
মাহফুজুর রহমান রিটন |ফাইল ছবি

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ৪৮ বছর বয়সী মাহফুজুর রহমান রিটন। কিন্তু দলের অনেক সিনিয়র নেতাকে পেছনে ফেলে তার এ পদে আসীন হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে ব্যাপক আলোচনা।

রোববার (১৫ মার্চ) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে রাসিকের প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন মাহফুজুর রহমান রিটন।

এর আগে শনিবার (১৪ মার্চ) স্থানীয় সরকার বিভাগ রাজশাহীসহ দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেয়। ওইদিন বিকেলে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

জানা গেছে, ১৯৭৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন মাহফুজুর রহমান রিটন। তিনি বর্তমানে রাজশাহী নগরীর রাজারহাতা এলাকার বাসিন্দা। শিক্ষাগত যোগ্যতা এলএলবি (অনার্স)। রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে অধ্যয়নকালে ক্লাস কমিটির সভাপতি হিসেবে রিটনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু হয়। পরে তিনি সিটি কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

দলের অনেক সিনিয়র নেতাকে পেছনে ফেলে মাহফুজুর রহমান রিটন এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে তরুণদের মাঝে বেশ জনপ্রিয় এই নেতার রাজনৈতিক পথচলা ছাত্ররাজনীতির মধ্যে দিয়েই শুরু। আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেয়া, কর্মীদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ এবং দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে দৃঢ় অবস্থানের কারণে তিনি দ্রুতই নেতাকর্মীদের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন।

এরপর ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। ২০০২ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। পরে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। এছাড়া ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

পরবর্তী সময়ে যুবদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন রিটন। ২০১৭ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। ২০২৫ সালে মহানগর যুবদলের সভাপতি থাকাকালেই তিনি রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজশাহীতে গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি। রাজনৈতিক কারণে তিনবার কারাবরণও করতে হয়েছে তাকে।

এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সরকার দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। এরপর থেকেই রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক পদ নিয়ে বিএনপির একাধিক নেতার মধ্যে আলোচনা ও তৎপরতা শুরু হয়।

প্রশাসক পদে আলোচনায় ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন, সহ-সভাপতি ওয়ালিউল হক রানা ও আবুল কালাম আজাদ সুইট। তবে শেষ পর্যন্ত সবাইকে চমকে দিয়ে তুলনামূলক কম বয়সী রিটনকেই রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বিএনপি সরকার।

দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা নিয়ে মাহফুজুর রহমান রিটন কিভাবে সিটি করপোরেশন প্রশাসনের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পরিচালনা করেন তা এখন দেখার বিষয়।

রাসিকের নবনিযুক্ত প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে তার দীর্ঘ ত্যাগ ও সংগ্রাম রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করবেন বলে উল্লেখ করেন। এছাড়া নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে তিনি সর্বোচ্চ ও নিরলস চেষ্টা করে যাবেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিযুক্ত হওয়ায় মাহফুজুর রহমান রিটনকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বর্তমানে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।

এক শুভেচ্ছা বার্তায় মিনু বলেন, ‘মাহফুজুর রহমান রিটনকে সুখী, সমৃদ্ধি ও শান্তির নগরী রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। রিটন আমার অত্যন্ত স্নেহের পাত্র। আগামী দিনে রাজশাহী মহানগরীর সুন্দর ও সমৃদ্ধিশীল হিসেবে গড়ে তুলতে রিটনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে এই প্রত্যাশা রাখছি। তার প্রতি সার্বিক সহযোগিতা সবসময় থাকবে। তার উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও মঙ্গল করছি।’