সাফল্যের ২৫তম বছর উদযাপন করল সিলেটের ঐতিহ্যবাহী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটি। বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারিদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।
শোভাযাত্রা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শান্তির প্রতীক পায়ড়া ও শুভেচ্ছা বেলুন উড়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি। লিডিং ইউনিভার্সিটির কলা ও আধুনিক ভাষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যালারী-১-এ এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে লিডিং ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন বলেন, ‘লিডিং ইউনিভার্সিটি আজকের এ পর্যায়ে আসার পেছনে রয়েছে দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীর সুদক্ষ কর্মপরিকল্পনা ও সঠিক দিকনির্দেশনা।’
লিডিং ইউনিভার্সিটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা মহিয়সী বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীকে স্মরণ করে ভিসি বলেন, ‘দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীর পৃষ্ঠপোষকতায় সবুজে ঘেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টিনন্দন স্থায়ী ক্যাম্পাসে মনোরম পরিবেশে মানসম্পন্ন পাঠদানের মাধ্যমে লিডিং ইউনিভার্সিটি মানবসম্পদ তৈরি করে এগিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘লিডিং ইউনিভার্সিটি সিলেটসহ সারাদেশে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশ এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার সাথে কাজ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বয়ে আনছে।’
ভিসি বলেন, ‘ইতোমধ্যে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ ও দীর্ঘ সময়ের পর শিক্ষকদের পদন্নোতি দেয়া হয়েছে। লিডিং ইউনিভার্সিটির তৃতীয় অ্যাকাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে যা লিডিং ইউনিভার্সিটির অবকাঠামোগত উন্নয়নে অগ্রগতির বহিঃপ্রকাশ।’
তিনি আরো বলেন, ‘এখানে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে রাগীব নগর শিক্ষা নগরীতে পরিণত হয়েছে।’ পরিশেষে দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীর স্বপ্নকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সবাই মিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
সভাপতির বক্তব্যে কলা ও আধুনিক ভাষা অনুষদের ডিন ড. মো: রেজাউল করিম বলেন, ‘রজত জয়ন্তীতে এই অর্জন উদযাপনের পাশাপাশি আমাদেরকে আগামী কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। শিক্ষার্থী হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ। তাই তাদেরকে সঠিকভাবে শিক্ষাদান করে দক্ষ করে তুলতে হবে। সে লক্ষ্যে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের রুটিন কাজের বাইরে প্রতিষ্ঠানকে আরো সামনে এগিয়ে নেয়ার কাজ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা খুবই কঠিন একটি কাজ। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নদ্রষ্টা ড. সৈয়দ রাগীব আলী স্বনামধন্য আরো বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলেছেন কিন্তু এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম লিডিং রেখেছেন এ অর্থে যে একদিন লিডিং ইউনিভার্সিটি লিড দিবে এ স্বপ্ন তার ছিল।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয় অত্যন্ত সফলতার সাথে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, যার পেছনে ড. সৈয়দ রাগীব আলীর অবদান রয়েছে। তার পৃষ্ঠপোষকতায় সুন্দর ও সাজানো পরিবেশ শিক্ষার্থীদের কল্যাণ কামনায় এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে যেখানে পড়াশোনা করতে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বেড়েই চলছে।’ তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সফলতা ও উত্তরোত্তর উন্নতি কামনা করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
লিডিং ইউনিভার্সিটির সাফল্য ও অর্জন এবং আজকের এ অবস্থানে আসার পেছনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আপ্রাণ চেষ্টা ও সর্বোচ্চ সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন লিডিং ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বশির আহমেদ ভূঁইয়া, ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা: মো: আব্দুল মজিদ মিয়া, ট্রাস্টি বোর্ডের সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো: লুৎফর রহমান, প্রক্টর মো: মাহবুবুর রহমান, পরিচালক অর্থ ও হিসাব মোহাম্মদ কবির আহমেদ, সকল বিভাগের বিভাগীয় প্রধানদের পক্ষে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহানশাহ মোল্লা, পাবলিক হেলথ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুসা: হালিমা বেগম ও ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো: আব্দুল মুহিত চৌধুরী।
বক্তব্যে তারা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের অংশ হিসেবে নিজেকে গর্ববোধ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কাজী মো: জাহিদ হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো: মফিজুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো: কবির আহমেদ, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষকবৃন্দ, লাইব্রেরিয়ান, বিভিন্ন দফতর প্রধান ও কর্মকর্তা-কমাচারীবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফজলে এলাহী মামুন।
অনুষ্ঠান শেষে দোয়া পরিচালনা করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: জিয়াউর রহমান। অনুষ্ঠানে লিডিং ইউনিভার্সিটির বিগত দিনের সাফল্য ও অর্জনের ওপর একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।



