সিরাজগঞ্জের তাড়াশে মোসা: আমেনা খাতুন (১৬) নামে এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের দাবি তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় আমেনা খাতুনের স্বামী সৌরভ ইসলাম খাঁনকে গ্রেফতার করেছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের ভিকমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আমেনা খাতুন ভিকমপুর গ্রামের মো: আব্দুল খালেকের মেয়ে এবং স্থানীয় মাধাইনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্র জানায়, পাঁচ মাস আগে আমেনা খাতুনের সাথে পার্শ্ববর্তী ঝুরঝুরি গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে ও তাড়াশ ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির ছাত্র সৌরভ খাঁনের (১৯) ইসলামী শরিয়া মোতাবেক পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। মেয়ের বয়স কম হওয়ায় কাবিন করা হয়নি মর্মে মামলার বাদী ও নিহতের বাবা মো: আব্দুল খালেক নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই সৌরভ তার স্ত্রীর কাছে যাতায়াত করত। গতকাল রোববার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে সৌরভ শশুড়বাড়িতে এসে স্ত্রীর শয়নকক্ষে রাত্রিযাপন করেন। স্ত্রী আমেনা খাতুন তার স্কুলের সহপাঠিদের সাথে বিভিন্ন রকম ছবি ওঠানোয় রাতে তাদের মাঝে ঝগড়া হয়।
ভোর পৌনে ৬টার দিকে আমেনার মা ঘুম থেকে ওঠার জন্য ডাক দিলে সৌরভ জানায় আমেনা মারা গেছে। এ সময় আমেনার মায়ের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে দেখতে পায় শয়নকক্ষে আমেনার লাশ চাদর দিয়ে ঢাকা রয়েছে। আসামি সৌরভ পালানোর চেষ্টা করলে লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।
নিহত আমেনা খাতুনের বাবা আব্দুল খালেকের দাবি, তার মেয়েকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।
তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে আমেনার স্বামী সৌরভকে গ্রেফতার করা হয়েছে।



