বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী মো: শরীফুল আলম বলেছেন, ‘বন্ধ থাকা সব টেক্সটাইল ও জুট মিল চালু করা হবে। সারা বাংলাদেশে বন্ধ মিলগুলো বিশেষ করে পাট এবং বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ টেক্সটাইল ও জুট মিলগুলো পরিদর্শন করছি। পর্যায়ক্রমে দেশী-বিদেশি বিনিয়োগকারী এনে আমরা এই ইন্ডাস্ট্রিগুলো চালু করার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করেছি।’
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে বন্ধ থাকা নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘নীলফামারী জেলার প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল পরিদর্শনে এসেছি। মিলটি যদিও বন্ধ, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী কমিটমেন্ট ছিল যে, সারা বাংলাদেশে যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ আছে বিশেষ করে টেক্সটাইল মিল বা জুট মিল এগুলো চালুর ব্যাপারে আমরা কার্যক্রম শুরু করেছি।’
দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে কর্মচঞ্চলতা ফিরে আসবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একটা সুখবর হলো এই মিলটিকে নিয়ে ইতোমধ্যে আমরা ইন্টারন্যাশনাল টেন্ডার আহবান করেছি, এটা মূল্যায়নের কাজ চলছে। আমরা একটা ভালো বিনিয়োগকারীও পেয়েছি। আশা করছি যে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিশেষ করে দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এই মিলে আবারো কর্মচঞ্চলতা ফিরে আসবে। আবার এটা চালু হবে এবং এই এলাকার মানুষের মধ্যে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।’
শরীফুল শরিফুল আলম বলেন, ‘আমাদের যে শিল্পায়নের জায়গাগুলো আছে যেগুলো বন্ধ হয়ে আছে, এগুলো চালু করা, কর্মসংস্থা তৈরি করা এবং ইনভেস্টমেন্ট বাড়ানো। যত বেশি বিনিয়োগ আমরা আনতে পারব, ততই মানুষের কর্মসংস্থান হবে। আমাদের অর্থনীতি, বিশেষ করে জেলা পর্যায়ে প্রান্তিক মানুষগুলোর মাঝে আবার আশার সঞ্চার হবে। আমরা এই কমিটমেন্ট করেছি, ওয়াদা করেছি।’
গত ১৭ বছর দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থবির ছিল উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সময়ের প্রেক্ষাপট আপনারা সকলেই জানেন। অনেক অসামঞ্জস্যতা আমরা লক্ষ্য করেছি। আমরা আর পেছনে যেতে চাই না। আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই। সেই লক্ষ্যে আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্যই হল বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। অর্থনৈতিক প্রাণচাঞ্চল্য আবার ফিরিয়ে আনা।’
সোনালী আঁশের যুগ পুনরুদ্ধারে নানাবিধ কর্মসূচি নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘সোনালী আঁশ ছিল আমাদের একটি ঐতিহ্য। এটি আজ অনেকটা কমে এসেছে। হারিয়ে যাচ্ছে। এটিকে পুনরুদ্ধারের জন্য আমরা নানাবিধ কর্মসূচি নিয়েছি। আমরা যে পানিতে আমরা পাট জাগ দিতাম, সেই জাগের জন্য পানির যে দুষ্প্রাপ্যতা, এটাকে ঠিক করার জন্য খাল খনন কর্মসূচি আবারো দেশে চালু হয়েছে। যাতে প্রতিটা বাড়ির সামনে পেছনে পানির প্রবাহ থাকে। প্রাকৃতিক পানি যাতে এই পাট জাগ দেয়া যায়। পাট চাষিদেরকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়া, বীজের ক্ষেত্রে আরো ফলন যাতে বাড়ে এ ক্ষেত্রেও আমাদের গবেষণা প্রয়োজন। এই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।’
টেক্সটাইল মিল পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী সদর উপজেলার গোড়গ্রাম ইউনিয়নের ক্লাসিকাল হ্যান্ডমেড প্রডাক্ট বিডি কারখানা পরিদর্শন করেন তিনি। এসময় নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আলফারুক আব্দুল লতিফ, বস্ত্র পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: সাইদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ বি এম ফয়জুল ইসলামসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।



