বরগুনার তালতলী উপজেলায় চোর সন্দেহে মোতালেব আকন (৭৫) নামে এক বৃদ্ধকে গাছের সাথে বেঁধে সারারাত নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাতে উপজেলার চাউলাপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পরদিনর বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে ঢাকায় নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত মোতালেব আকন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের তুলাতলী মিশ্রীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।
নিহতের ছেলে মোয়াজ্জেম আকন জানান, কয়েকদিন আগে একই উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নে বাবা তার নিজ মামা বাড়িতে বেড়াতে যান। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি চাকামইয়া ইউনিয়ন থেকে পার্শ্ববর্তী তালতলীর কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নে ফুফুর বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। পথে শারিকখালী ইউনিয়নের চাউলাপাড়া গ্রামে পৌঁছালে স্থানীয় আলামিন গাজীসহ আট থেকে ১০ জন তাকে চোর সন্দেহে আটক করে গাছের সাথে বেঁধে সারারাত মারধর করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানতে পেরেছি। একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে পাশের একটি নূরানী মাদরাসার সামনে ফেলে রাখা হয়।
স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) নাসির উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিমকে গাছের সাথে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে মুক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি অসংলগ্ন কথা বলেন, যা দেখে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়। কিছুক্ষণ পর তিনি দৌড় দিয়ে পড়ে গিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে থানায় খবর দেয়া হয়। থানা থেকে তার আত্মীয়-স্বজনকে সংবাদ দিয়ে তাদের কাছে পৌঁছে দিতে বলা হয়। সকালে গ্রাম পুলিশ সিদ্দিক চৌকিদারকে সংবাদ দেয়া হয়।
গ্রাম পুলিশ সদস্য সিদ্দিক চৌকিদার জানান, বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি ভিকটিমকে অজ্ঞান অবস্থায় দেখতে পান। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সযোগে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে তার ছেলে মোয়াজ্জেম আকনসহ পরিবারের লোকজন উপস্থিত হয়।
নিহতের ছেলে মোয়াজ্জেম আকন বলেন, বাবার অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ঢাকায় রেফার করা হয়। ঢাকা নেয়ার পথে বুধবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ছেলে আরো জানান, বাবাকে মারধরের ঘটনায় জীবিত অবস্থায় তালতলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছি। মৃত্যুর পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করার আবেদন করেছি।
তালতলী থানা সূত্রে জানা গেছে, লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং নিজ বাড়িতে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
তালতলী থানার ওসি (তদন্ত) শরিফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় প্রথমে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তীতে একই মামলার বাদী হত্যা মামলা করার আবেদন করেছে যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।



