পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন দিনেও মানবিক দায়িত্ব পালনে বিরতি দেয়নি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’। সংগঠনটির উদ্যোগে এক অজ্ঞাত বৃদ্ধের বেওয়ারিশ লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। এটি তাদের ২৪৮তম দাফন কার্যক্রম।
শনিবার (২১ মার্চ) বিকেল ৩টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অজ্ঞাত ওই বৃদ্ধের লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে জেলার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের ধাতুর পহেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত ভবনের অফিস কক্ষে প্রায় ৮০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত বৃদ্ধ অসুস্থ হয়ে মারা যান। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) লাশের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ডাটাবেজের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালায়। প্রাথমিকভাবে ফিঙ্গারপ্রিন্টের ভিত্তিতে ‘মো: ইসমাইল হক’ নামের এক ব্যক্তির সাথে মিল পাওয়া গেলেও পরবর্তী যাচাই-বাছাইয়ে তা ভুল প্রমাণিত হয়।
সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যরা জানান, দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মো: ইসমাইল হক প্রায় ১৫ বছর আগে মারা গেছেন এবং উদ্ধার হওয়া লাশটি তাদের পরিবারের কেউ নন। পরে আখাউড়া থানা ও পিবিআই-এর যৌথ উদ্যোগে ঢাকার পিবিআই সদর দফতর ও নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে পুনরায় যাচাই করেও লাশটির প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই বৃদ্ধ প্রায় তিন বছর ধরে বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনের একটি কক্ষে বসবাস করতেন। এলাকাবাসীর কাছে তিনি ‘আবুল হোসেন’ নামে পরিচিত ছিলেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো: আজহার উদ্দিন বলেন, ‘বেওয়ারিশের ওয়ারিশ হয়ে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে আমরা এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। পরিচয়হীন এসব মানুষের দাফন নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ঈদের দিনেও আমরা এই দায়িত্ব পালন করেছি।’
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: জাবেদ উল ইসলাম বলেন, ‘প্রথমে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও পরে তা ভুল প্রমাণিত হয়। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ধরনের কাজে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর সবসময় সহযোগিতা করে থাকে।’
উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল ফিতরের মতো উৎসবের দিনেও সংগঠনটির মানবিক কার্যক্রম থেমে নেই। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তারা বেওয়ারিশ লাশ দাফন এবং অজ্ঞাত রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত সংগঠনটির উদ্যোগে মোট ২৪৮টি বেওয়ারিশ লাশ দাফন সম্পন্ন হয়েছে।



