বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার মুরং বাজার সংলগ্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সেনাবাহিনীর সাথে গোলাগুলির ঘটনায় জনসংহতি সমিতির এক সদস্য নিহত হয়েছেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তি এলামং মারমা (৩২) বলে জানা গেছে। তার পরিচয়পত্র অনুযায়ী ঠিকানা বান্দরবানের রুমা উপজেলা।
বান্দরবান সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. দিলীপ চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, ইউনিফর্ম পরিহিত গুলিবিদ্ধ একজনকে হাসপাতালে আনা হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার মো. আবদুর রহমান জানান, মুরং বাজার এলাকায় গোলাগুলির ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৪টার দিকে বান্দরবান-রুমা সড়কের মুরং বাজার এলাকায় তিনটি যানবাহন আটকিয়ে চাঁদাবাজির চেষ্টা করছিল জনসংহতি সমিতির সদস্যরা। খবর পেয়ে রুমা গ্যারিসন থেকে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল ঘটনাস্থলে যায়। সেনাসদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে জনসংহতি সমিতির সদস্যরা কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। জবাবে সেনাবাহিনী পাল্টা গুলি চালালে জনসংহতি সমিতির এক সদস্য গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে একটি এসএমজি, দুটি ম্যাগাজিন, ১৪৩ রাউন্ড গুলি, একটি পিস্তলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিকেলে মুরং বাজারের ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন। রাত পর্যন্ত জনসংহতি সমিতির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে শনিবার বান্দরবান শহরের চড়ুইপাড়া এলাকায় জনসংহতি সমিতির হামলায় সেনাবাহিনীর দুই সদস্য আহত হন বলে জানা গেছে।



