বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু

শেখ মুজিব আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানে গিয়ে জামাই আদরে বসেছিল

জেড ফোর্স নিয়ে জিয়াউর রহমান যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। দেশ স্বাধীন হলো। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে সে জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করল শেখ হাসিনা। তখন মুক্তিযোদ্ধারা সুবিধা পাওয়ার আশায় প্রতিবাদটুকু করেননি বলে তিনি আক্ষেপ করেন।

নুরুল ইসলাম রইসী, সিরাজগঞ্জ

Location :

Sirajgonj
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন আয়োজিত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন  বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন আয়োজিত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু |নয়া দিগন্ত

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ করে নাই। এদেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। দেশকে স্বাধীন করেছিল। পঁচিশে মার্চ কালরাতে শেখ মুজিব আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানে গিয়ে জামাই আদরে বসেছিল। শেখ মুজিব যুদ্ধ করেনি।

তিনি বলেন, কোনো দেশের ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয় নাই। বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে অধিকার আদায়ের জন্য। প্রগতিশীল রাষ্ট্র নির্মাণের জন্য। ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র নির্মাণের জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। মুক্তিযুদ্ধকে শেখ হাসিনার বাপের সম্পত্তি মনে করলেও আমরা তা মানিনা মানবো না। মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি জনযুদ্ধ।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বেলা ১১ টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসন আয়োজিত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল। শেখ মুজিববিহীন মুক্তিযুদ্ধে এদেশের মুক্তিকামী মানুষ ছিল দিশেহারা। নেতৃত্বহীন মানুষকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য সেদিন চট্টগ্রামের কালুরঘাটে একজন মেজর স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন। সেদিনের সেই মেজর ছিলেন জিয়াউর রহমান। জেড ফোর্স নিয়ে জিয়াউর রহমান যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। দেশ স্বাধীন হলো। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে সে জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করল শেখ হাসিনা। তখন মুক্তিযোদ্ধারা সুবিধা পাওয়ার আশায় প্রতিবাদটুকু করেননি বলে তিনি আক্ষেপ করেন।

বিদ্যুৎ মন্ত্রী আরো বলেন, মা মাটি দেশ মানচিত্র রক্ষা করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম। কী পাবো তার জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধে যাই নাই। কিন্তু দীর্ঘ ১৭ বছরে মুক্তিযুদ্ধের চিত্র ছিল বিপরীত। মুক্তিযুদ্ধকে ক্ষমতায় থাকার এবং লুটেপুটে খাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার আমলেই মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়েছিল, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা চালু করা হয়েছিল, মুক্তিযোদ্ধাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছিল।

বিদ্যুৎ মন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, পাম্পে যে তেলে দুই দিন চলতো এখন দুই ঘণ্টায় তা শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই তেল যায় কোথায়? তেল নিয়ে কাউকে তেলেসমাতি করতে দেয়া হবে না। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের আহবায়ক ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান দুলাল।

উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (ডিডিএলজি) কামরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গণপতি রায়, সিরাজগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক শাহাদাত হোসেন, জেলা সিভিল সার্জন নুরুল আমিন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছাইদুর রহমান বাচ্চু, জেলা সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেছের আলী, যুগ্ম আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন, কামারখন্দ উপজেলা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক প্রমুখ।