লালমনিরহাটে বিএসএফের গুলি, বাংলাদেশী যুবক আহত

বোরো ক্ষেতে পানি দিতে গেলে বিএসএফের গোমতী ক্যাম্পের টহল সদস্যরা কোনো কারণ ছাড়াই মিজানের দিকে গুলি ছোঁড়ে। ছোঁড়া গুলি মিজানের কাধে লাগলে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন।

আমিনুর রহমান বাবুল, পাটগ্রাম (লালমনিরহাট)

Location :

Lalmonirhat
পাটগ্রাম সীমান্ত এলাকা
পাটগ্রাম সীমান্ত এলাকা |নয়া দিগন্ত

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) গুলিতে মিজানুর রহমান মিজান (২৫) নামে এক বাংলাদেশী কৃষক গুরুতর আহত হয়েছেন।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ১০ টার দিকে উপজেলার রহমতপুর গাটিয়ার ভিটা সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।

মিজান ওই সীমান্ত এলাকার মফিজুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, মিজান সকালে সীমান্তের ৮২৬ নম্বর মেইন পিলারের ২ নম্বর সাব পিলারের কাছে বোরো ক্ষেতে পানি দিতে যান। এসময় ভারতের ৯৮ বিএসএফের গোমতী ক্যাম্পের টহল সদস্যরা কোনো কারণ ছাড়াই তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। বিএসএফের ছোঁড়া গুলি মিজানের কাধে লাগলে আহত অবস্থায় দৌঁড়ে পালিয়ে আসেন। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘বিএসএফ মিজানকে দেখে বলে তুমি একটা ভুট্টা এনে আমাকে দেখাও তো কেমন হয়েছে। মিজান সরল বিশ্বাসে একটা ভুট্রা নিয়ে বিএসএফ সদস্যকে দেখাতে গেলে পেছন থেকে অপর এক বিএসএফ সদস্য তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। এ ঘটনার পর সেখানে শত শত বিএসএফ অবস্থান গ্রহন করে। পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অবস্থান নেয়।’

এদিকে এ ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা সীমান্ত এলাকা থেকে শ্রী সাধন বর্মন নামে এক ভারতীয় নাগরিককে দু’টি গরুসহ বাংলাদেশে ধরে নিয়ে আসেন। বর্তমানে আটক ব্যক্তি বিজিবির হেফাজতে রয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, এর আগে ওই সীমান্তে বিএসএফ আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে নো ম্যানস ল্যান্ডে ল্যাম্প পোস্ট নির্মাণ করেছে। ওই ল্যাম্প পোস্টের আলো বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় এলাকার লোকজন সবসময় ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় থাকে।

এ বিষয়ে ৬১ বিজিবি-এর (তিস্তা ব্যাটালিয়ন) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল সৈয়দ ফজলে মুনিম বলেন, ‘এ ঘটনায় দু’দেশের ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। বৈঠক হলে পুরো বিষয়টি জানা সম্ভব হবে। তবে বর্তমানে সীমান্ত এলাকা বিজিবির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’