একটি হোটেল ভবনের চারতলা। বরযাত্রীরা দোতলায় নামবে। লিফটে ধারণক্ষমতা ছয়জন। উঠে পড়লেন বরসহ ১০ জন। ফলে যা হওয়ার তাই হলো। ওজন বেশি হওয়ায় লিফট নষ্ট হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিচে নেমে যায়। আটকা পড়েন লিফটের ভেতরের যাত্রীরা। শুরু হয় মৃত্যু আতঙ্ক। ভেতরে কান্নাকাটি। হোটেল কর্তৃপক্ষ খবর দেয় ফায়ার সার্ভিসকে। এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ভবনের নিচের দেয়াল ভেঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের লোকেরা তাদের উদ্ধার করে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী, প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, এদিন বিকেল পৌনে ৪টার দিকে শহরের স্টেশন রোড এলাকার খান টাওয়ারে অবস্থিত হোটেল শেরাটনের নিচতলার একটি দেয়াল ভেঙ্গে তাদের উদ্ধার করা হয়।
এর আগে বেলা পৌনে ৩টার দিকে হোটেলটির চারতলা থেকে দোতলায় নামতে গিয়ে ছয়জন ধারণক্ষমতার লিফটটিতে ১০ জন ওঠায় লিফটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিচে নেমে যায়। এতে বরসহ ১০ জন বরযাত্রী লিফটের মধ্যে আটকা পড়েন। লিফটটি উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন হওয়ায় সেটি ছিঁড়ে না গিয়ে নিচের প্রান্তসীমায় গিয়ে থেমে পড়ে। এতে লিফটে আটকে পড়া লোকজন শারীরিকভাবে কোনো আঘাতপ্রাপ্ত হননি। সেখান থেকেই তারা লিফটের ইন্টারকমে হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। হোটেল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসকে জানালে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। এ সময় অন্যান্য বরযাত্রী, কনেপক্ষের লোকজন ও উৎসুক জনতা হোটেলটিতে ভিড় জমান।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, আতিকুর রহমান (৪০), মিনহাজ ইবনে ফারুক (৩০), জোনায়েদ তারেক (৩৫), মোনতাছির (২৫), ইয়াহিয়া তানভীর (২০), এমদাদ (৪০), হুমায়ুন কবির (৩০), রাইছুস সালেহীন (৩৫), রেজওয়ানুল হক (৩৯) ও জারিফ (৩২)। তাদের মধ্যে বর জোনায়েদ তারেক। তারা সবাই চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তেকোটা গ্রামের বাসিন্দা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরপক্ষের লোকজনের বাড়ি দূরে হওয়াতে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে তারা কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের হোটেল শেরাটন নামের আবাসিক হোটেলটিতে বরসহ বরের আত্মীয়স্বজনরা রাত্রিযাপন করেন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) জুমআর নামাজের পর শহরের পুরানথানায় অবস্থিত ঐতিহাসিক শহীদী মসজিদে বিয়ে সম্পন্ন হয়। অন্য একটি রেস্টুরেন্ট তাদের মধ্যাহ্ণভোজের স্থান নির্ধারিত ছিল। সেখানে যাওয়ার আগে তারা আবাসিক হোটেলটিতে ফিরেন। এরপর মধ্যাহ্নভোজের জন্য তারা হোটেল থেকে নামার জন্য ছয়জনের ধারণক্ষমতার লিফটে ১০ জন ওঠে পড়েন। এতেই ঘটে বিপত্তি। অতিরিক্ত ওজনের ফলে লিফটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিচে নেমে পড়ে। খবর পেয়ে লিফটে আটকা পড়া লোকজনকে উদ্ধার করার জন্য ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা তৎপরতা শুরু করেন। প্রথমে তারা লিফটটি উপরে তোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে নিচতলার ভবনের লিফট সংলগ্ন দেয়াল ভেঙে এক এক করে ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন।
কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লিডার আমিনুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করি। লিফটে ১০ জন আটকা পড়েছিল। তাদের সবাইকে জীবিত অবস্থায় আমরা উদ্ধার করেছি।
এ ব্যাপারে হোটেল শেরাটনের চেয়ারম্যান জিয়া উদ্দিন খান বলেন, লিফটিতে কোনো ত্রুটি ছিল না। ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ মানুষ লিফটটিতে উঠেন। লিফটটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির হওয়ায় সেটি ধীরে ধীরে নিচে নেমে যায়। লিফটে মানুষজন আটকা পড়ার পরও সেখানে তাদের কোনো ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা অত্যন্ত কুশলতার সাথে দেওয়াল ভেঙে তাদের উদ্ধার করেছেন।



