ডা: শফিকুর রহমান

তিস্তা হবে উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু

‘এখন পালা বদলের সময় এসেছে, আপনারা বিশ্রামে যান, আমাদের সুযোগ দেন। আমরা কখনো দেশের মানুষকে ছেড়ে যাব না। আমরা ঘোষণা দিয়েছি, উত্তরবঙ্গকে দেশের কৃষিভিত্তিক রাজধানী গড়ে তুলব। যখন কর্মসংস্থান হবে তখন সারাদেশ উন্নত হবে। এ অঞ্চলের উৎপাদিত শস্য শুধু দেশের চাহিদা নয়; বিদেশেও রফতানি করা যাবে।’

নীলফামারী প্রতিনিধি

Location :

Nilphamari
জনসভায় বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান
জনসভায় বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘তিস্তা আমাদের নেয়ামত ও অহংকার হওয়ার কথা। কিন্তু এই তিস্তাকে নিয়ে এখন আমাদের অনেক দুঃখ। আমরা কথা দিচ্ছি, আমরা এই তিস্তাকে নতুন জীবন দেবো। এই তিস্তা আর মরুভূমি থাকবে না। তিস্তা হবে উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু।’

তিনি বলেন, ‘এখানকার পানি সারা উত্তরবঙ্গকে উর্বর করে তুলবে। নদী ভাঙনের কবলে পড়ে প্রতি বছর হাজার হাজার পরিবারকে আর নিঃস্ব হতে হবে না। আমরা কথা দিচ্ছি, যেকোনো মূল্যের বিনিময়ে তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব ইনশাআল্লাহ।’

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলা শাখার যৌথ আয়োজনে তিস্তা ব্যারেজের হেলিপ্যাড মাঠে এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব, কারণ আমার দেশ আগে, এদেশের জনগণের স্বার্থ আগে। আমরা কারো স্বার্থে আঘাত দেবো না, কিন্তু কেউ আগে আমাদের স্বার্থে আঘাত করলে সেটা মেনে নেবো না। এখন অনেক যৌক্তিক দাবি রয়েছে, তার মধ্যে বুড়িমারী স্থলবন্দর আধুনিকায়ন করতে হবে। তিস্তা পাড় থেকে বাংলাদেশের উন্নয়ন শুরু হবে ইনশাআল্লাহ। যুগ যুগ ধরে এ অঞ্চলের মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে। অনেকে বসন্তের কোকিলের মতো একবার দেখা দেয়। আমরা বসন্তের কোকিল না; দুঃখের সময়েও আছি, ভালো সময়েও আছি। আমরা বিপদের সময়ে দেশ ছেড়ে চলে যাই না, মাটি কামড়ে ধরে থাকি। আমরা দেশবাসীর বুকে আশ্রয় চাই।’

তিনি বলেন, ‘যারা জাতির সাথে দীর্ঘসময় বেইমানি করেছে, আগামীর নির্বাচন তাদের লাল কার্ড দেখানোর নির্বাচন। রাজনীতির নাম ব্যবসা নয়, চাঁদাবাজি নয়; এটি হচ্ছে রাজার নীতি। আগামী ১৩ তারিখ বাংলাদেশের পূর্ব আকাশে একটি নতুন সূর্যের উদয় হবে। আমরা সবাইকে নিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘এখন পালা বদলের সময় এসেছে, আপনারা বিশ্রামে যান, আমাদের সুযোগ দেন। আমরা কখনো দেশের মানুষকে ছেড়ে যাব না। আমরা ঘোষণা দিয়েছি, উত্তরবঙ্গকে দেশের কৃষিভিত্তিক রাজধানী গড়ে তুলব। যখন কর্মসংস্থান হবে তখন সারাদেশ উন্নত হবে। এ অঞ্চলের উৎপাদিত শস্য শুধু দেশের চাহিদা নয়; বিদেশেও রফতানি করা যাবে। আল্লাহ যদি আমাদের এ দেশ সেবার সুযোগ দেন, আমরা যদি আপনাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারি, দেশে যারা আছে সবাইকে নিয়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। সকল ধর্ম, বর্ণের মানুষকে নিয়ে আমরা এগিয়ে যাব।’

নারীদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘বর্তমানে মা-বোনেরা লাঞ্ছিত হচ্ছেন। আমরা বলে রাখি, প্রয়োজনে জীবন দেবো, তবুও মা-বোনের ইজ্জত কাউকে কেড়ে নিতে দেবো না। এদেশের নয় কোটি নারী আমাদের মা, তাদের শ্রদ্ধার সাথে আমরা দেখি। তারা শিক্ষিত হবেন, দেশ গড়তে দায়িত্ব নিবেন। তারা কর্মসংস্থানে কাজ করবেন ইনশাআল্লাহ। তারা সব জায়গায় থাকবে, নিরাপদভাবে কাজ করবে মর্যাদার সাথে। আমরা নারী জাতির জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করব ইনশাআল্লাহ।’

গণভোট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের দু’টি ভোট, একটি হচ্ছে গণভোট, আর একটি দাঁড়িপাল্লা। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, আর না মানে গোলামি। আমরা সবাই ১২ তারিখের প্রথম ভোট ‘হ্যাঁ’-তে দেবো ইনশাআল্লাহ। আমরা সবাইকে ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দেয়ার জন্য বলব। একটি দল এর আগে গণভোটে ‘না’ প্রচারণা চালাচ্ছিল, যখন দেখে ‘না’ জনস্রোতে ভেসে যাবে তখন ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দিতে বলছে। তবুও আমরা তাদের প্রতি জানাই মোবারকবাদ।’

এ সময় জামায়াত আমির নীলফামারী-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার, নীলফামারী-২ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলফারুক আব্দুল লতীফ, নীলফামারী-৩ আসনের প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি, নীলফামারী-৪ আসনের প্রার্থী হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুল মুনতাকিম, লালমনিরহাট-১ আসনের প্রার্থী মো: আনোয়ারুল ইসলাম রাজু, লালমনিরহাট-২ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফিরোজ হায়দার লাভলূ ও লালমনিরহাট-৩ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবু তাহেরের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।

জামায়াতে ইসলামীর লালমনিরহাট জেলা শাখার আমির অ্যাডভোকেট আবু তাহেরের সভাপতিত্বে ও নীলফামারী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবদুল হালিম, রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, টিম সদস্য আব্দুর রশীদ, নীলফামারী জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তারসহ নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ।