সালথা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা
ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম তার নাম ব্যবহার করে কেউ যেন কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা নিতে না পারে—এ বিষয়ে দুই উপজেলার সরকারি দফতরগুলোকে সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে সরকারি প্যাডে আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) জারি করা ওই নির্দেশনায় নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) উদ্দেশে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সরকারি অফিসে মন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিগত সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করতে পারে—এমন অভিযোগ পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হচ্ছে। এ ধরনের কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ না দিতে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিঠিতে আরো বলা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি তার নাম ব্যবহার করে সুপারিশ, তদবির বা বিশেষ সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে তা গুরুত্বসহকারে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সাথে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘আমার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গায় অনৈতিক সুবিধা নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাই সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করতে এ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।’
তিনি আরো জানান, জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সবাইকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
কেউ যদি তার নাম ভাঙিয়ে কোনো ধরনের সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেয়ারও অনুরোধ জানান তিনি।
নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার প্রশাসনিক, আইনশৃঙ্খলা ও বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছেও এই সতর্কবার্তার অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, মৎস্য কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, অফিসার ইনচার্জ (ওসি), প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, এলজিইডি প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী, নির্বাচন কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, খাদ্য নিয়ন্ত্রক, আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা, পোস্টমাস্টার, সাব-রেজিস্টার, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএমসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা রয়েছেন।
এ নির্দেশনা জারির মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।



