খুলনা ব্যুরো ও ফুলতলা সংবাদদাতা
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনের জামায়াত মনোনীত ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত’ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশজুড়ে একটি রাজনৈতিক জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘রাজধানী থেকে গ্রাম-গঞ্জ, শ্রমিক, রিকশাচালক, দিনমজুর, দোকানদার, ব্যবসায়ী, ব্যাংকার ও ছাত্রসমাজ সবার মুখে এখন একটাই উচ্চারণ— আমরা পরিবর্তন চাই।’
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফুলতলা উপজেলা স্বাধীনতা চত্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, ‘স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পাওয়া তিনটি দল সততা, নৈতিকতা, চরিত্র ও আমানতদারির পরীক্ষায় বারবার ব্যর্থ হয়েছে। যারা বারবার পরীক্ষায় ফেল করে, তাদের আর পরীক্ষায় বসতে দেয়া হয় না। জনগণ এবার সেই ফেল করা দলগুলোকেই রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে চায়।’
সভার বিশেষ অতিথি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘একটি পক্ষ বুলেটের প্রস্তুতি নিচ্ছে, আর আমরা ব্যালটের প্রস্তুতি নিচ্ছি। বুলেটের রাজনীতিকে আমরা ব্যালটের রাজনীতির মাধ্যমে পরাজিত করব। এই নির্বাচন অর্জনের জন্য আমাদের অনেক মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে।’
নির্বাচন কোনো সহজ অর্জন নয় উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘এই নির্বাচন পেতে সহস্র মানুষ শহীদ হয়েছেন, অসংখ্য মানুষ গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘আয়নাঘর শুধু একটি স্থাপনা নয়, সারা বাংলাদেশই নিপীড়িত মানুষের জন্য উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত হয়েছিল। ২০০৯ সালের আগে বায়তুল মোকাররমের সামনে লগি-বৈঠার রাজনীতি থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে ওসমান হাদির শাহাদাত পর্যন্ত দীর্ঘ রক্তাক্ত লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে আজকের নির্বাচন এসেছে।’
নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দায়িত্বের কথা তুলে ধরে প্রশাসনের উদ্দেশে হাসানাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিগত তিনটি নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। দিনের ভোট রাতে করা হয়েছে, মৃত মানুষকে কবর থেকে তুলে এনে ভোট দেয়া হয়েছে।’
‘এসব কর্মকাণ্ড উপর মহলের নির্দেশে করা হয়েছিল বলেই আমরা বিশ্বাস করতে চাই।’
পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচন তরুণ প্রজন্ম ও শহীদদের রক্তে অর্জিত।’ কোনো পুলিশ সদস্য যদি অবৈধ টাকার মুখোমুখি হন- তাহলে সন্তান, বাবা-মা ও দেশের মানুষের কথা মনে রাখার জন্য বলেন তিনি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যদি আবার ব্যালট বাক্স ভরে দেয়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে জনগণের বিদ্রোহ সামলানো যাবে না বলে।’
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘অনেক সাংবাদিক সত্য তুলে ধরতে চাইলেও মালিকানার কারণে তা পারেন না।’ তার অভিযোগ, একটি গোষ্ঠী টেলিভিশন ও সরকারি প্রতিষ্ঠান দখল করে মিডিয়া মাফিয়াগিরি চালাচ্ছে। বলেন, ‘জনগণ জেগে উঠলে কোনো মিডিয়ার প্রয়োজন হয় না, জনগণই তখন মিডিয়া হয়ে ওঠে।’
মিডিয়া মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট দলের প্রচারণা চালালে সেই গণমাধ্যম আর গণমাধ্যম থাকে না, দালালে পরিণত হয়।’
ফুলতলা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক আব্দুল আলিম মোল্লার সভাপতিত্বে নির্বাচনী জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস ও অধ্যক্ষ গাউসুল আযম হাদী প্রমুখ।



