গাজীপুরে উদ্বোধনের আগেই ধসেপড়া সড়ক পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কাজের প্রকল্প পরিচালক (পিডি)সহ দুই প্রকৌশলী ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। এসময় ঘটনার অধিকতর তদন্ত ও দায়িত্বে অবহেলা সংক্রান্ত কারণ অনুসন্ধানে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে সিটি করপোরেশনের কাশিমপুরের ধনঞ্জয়খালী এলাকায় নির্মাণাধীন সড়কটি উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ে।
সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে প্রতিমন্ত্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সড়কটির নির্মাণমান, ব্যবহৃত উপকরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। প্রাথমিক তদন্তে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং ভূ-প্রাকৃতিক প্রভাবের তথ্য উঠে এসেছে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ ও প্রকৌশলী শামসুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো: শওকত হোসেন সরকারের কাছে বরখাস্ত সংক্রান্ত চিঠি হস্তান্তর করেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘উদ্বোধনের আগেই একটি সড়ক ধসে পড়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নামাবাজার থেকে ধনঞ্জয়খালী প্রাইমারি স্কুল হয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিলালের বাড়ি পর্যন্ত নির্মাণাধীন এ রাস্তা। রাস্তাটি ভেঙ্গে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হলে বিষয়টি আমাদের মন্ত্রণালয়ের নোটিশে আনেন। আমি আমার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলি এবং আমাদের প্রশাসকের সাথে কথা বলে আজকে ঘটনাস্থলে এসেছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘গতকাল ও গত পরশু আমাদের একটি তদন্তদল এখানে কাজ করেছে। তারা প্রাথমিকভাবে যে রিপোর্টটি দিয়েছে, তাতে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, এ কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের একটি বিষয় এখানে আছে। এ কারণে এটি ভেঙ্গ পড়েছে।’
‘এই প্রজেক্টের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২২ কোটি টাকা। কাজটি দুই ভাগে বিভক্ত, এর মাঝে একটি ভাগের কাজ হলো ১২ কোটি টাকার। ইতোমধ্যেই ঠিকাদারকে ৬ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ঠিকাদারের পাওনা রয়েছে আর ৫ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আমার নেতৃত্বে যে টিম এখানে পাঠানো হয়েছে। সে টিমের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ কাজের প্রকৌশলী সামসুর রহমান ও প্রকল্পের পিডি প্রকৌশলী হারুন অর রশিদকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আপাদত কোনো কাজ করতে পারবে না। তাদের ব্যাপারে কালোতালিকাভুক্তসহ আরো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমরা আরো একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পূর্ণাঙ্গ তদন্তে যারা দায়ী প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে,’ বলেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি জানান, এ ঘটনায় পূর্বে গঠিত সকল তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরিবর্তে সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের আগামী ১৫ দিনের (ছুটির দিনসহ) মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রকৌশলীদের পক্ষ থেকেও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। প্রকল্পের পিডি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত মান বজায় রেখেই বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে প্রাকৃতিক কারণ ও স্থানীয় ভূ-প্রকৃতির কারণে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে, আশা করছি প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হবে।’
এ বিষয়ে প্রকৌশলী শামসুর রহমান বলেন, ‘এটা একটি প্রকৃতিকজনিত ঘটনা। কাজ যখন চলমান ছিল, তখন আমি ওই স্থানে দায়িত্বে ছিলাম না। তারপরও বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে আমি আশা করি।’



