রোহিঙ্গাদের নিজ জন্মভূমি মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছা ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের ছেলে নেকমেদ্দিন বিলাল এরদোয়ান।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কক্সবাজার সফরকালে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয় পরিদর্শন শেষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সরকারি কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিলাল এরদোয়ান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট কোনো একক দেশের দায় নয়, এটি একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। টেকসই সমাধানের জন্য প্রয়োজন আন্তর্জাতিক ঐক্য, কার্যকর কূটনৈতিক চাপ এবং অব্যাহত মানবিক সহায়তা।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে ঢাকা থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান বিলাল এরদোয়ান। তার সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন জার্মানির সাবেক তারকা ফুটবলার মেসুত ওজিল। বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আ: মান্নান ও পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান।
মতবিনিময় সভায় বিলাল এরদোয়ান বলেন, ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার পর থেকে তুরস্ক রোহিঙ্গাদের পাশে রয়েছে। আশ্রয়, চিকিৎসা, শিক্ষা ও খাদ্য সহায়তায় তুরস্ক সরকার ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।
তিনি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, বিপুল সংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিরল দৃষ্টান্ত।
তবে তিনি স্পষ্ট করেন, কেবল মানবিক সহায়তা দিয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে হবে। একই সাথে জাতিসঙ্ঘসহ বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর আরো কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সভা শেষে প্রতিনিধি দলটি উখিয়ার বালুখালী ৯ নম্বর রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করে। সেখানে তুর্কি ফিল্ড হাসপাতাল এবং তুরস্কভিত্তিক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা পরিচালিত মাল্টিপারপোজ এডুকেশন অ্যান্ড কালচারাল সেন্টার ঘুরে দেখেন তারা। শিবিরে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে তাদের বর্তমান জীবনযাপন, শিক্ষা-চিকিৎসা সুবিধা ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
প্রতিনিধি দলে তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থার সভাপতি আব্দুল্লাহ এরেন, ঢাকাস্থ তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা ছিলেন। সফরসংশ্লিষ্টরা জানান, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরে বিষয়টি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বাস্তব অগ্রগতি আনার লক্ষ্যেই এ সফর।
২০১৭ সালের পর থেকে কক্সবাজারের বিভিন্ন শিবিরে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি এই বাস্তবতায় স্থানীয় অর্থনীতি, পরিবেশ ও সামাজিক কাঠামোর ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিলাল এরদোয়ানের সফর নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াবে কি না, এখন সে দিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল।



