জাতিসংঘ মহাসচিবের অভিযোগ

ফিলিস্তিনি রোগীদের মিসরে যেতে বাধা দিচ্ছে ইসরাইল

আল জাজিরার প্রতিবেদক হিন্দ খৌদারি জানান, মঙ্গলবার মাত্র ১৬ জন ফিলিস্তিনিকে রাফাহ দিয়ে মিসরে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়। আগের দিন এ সংখ্যা ছিল মাত্র পাঁচজন। অথচ ইসরাইলি কর্মকর্তারা প্রতিদিন উভয় দিক থেকে অন্তত ৫০ জনকে যাতায়াতের অনুমতির কথা বলেছিলেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারা মঙ্গলবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে গাজা ও মিসরের মধ্যবর্তী রাফাহ ক্রসিং দিয়ে ফিলিস্তিনি রোগীদের এবং যুদ্ধাহতদের বিদেশে চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নিতে সাহায্য করছেন
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারা মঙ্গলবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে গাজা ও মিসরের মধ্যবর্তী রাফাহ ক্রসিং দিয়ে ফিলিস্তিনি রোগীদের এবং যুদ্ধাহতদের বিদেশে চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নিতে সাহায্য করছেন |সংগৃহীত

গাজা উপত্যকায় অবিলম্বে মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দিতে ইসরাইলের প্রতি পুনরায় আহ্বান জানিয়েছেন

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস অভিযোগ করেছেন, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ রাফাহ সীমান্ত দিয়ে অধিকাংশ ফিলিস্তিনি রোগীকে চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে বাধা দিয়ে চলেছে। একই সঙ্গে গাজা উপত্যকায় অবিলম্বে মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দিতে ইসরাইলের প্রতি পুনরায় আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বক্তব্য দেয়ার সময় গুতেরেস বলেন, “রাফাহ সীমান্তসহ সব পথ দিয়ে দ্রুত ও নির্বিঘ্নভাবে বৃহৎ পরিসরে মানবিক সহায়তা প্রবেশের ব্যবস্থা করতে হবে।”

এদিন গাজা ও মিসরের মধ্যকার সদ্য আংশিকভাবে খোলা রাফাহ সীমান্তে শতাধিক অসুস্থ ও আহত ফিলিস্তিনি জড়ো হন, বিদেশে চিকিৎসার আশায়।

আল জাজিরার প্রতিবেদক হিন্দ খৌদারি জানান, মঙ্গলবার মাত্র ১৬ জন ফিলিস্তিনিকে রাফাহ দিয়ে মিসরে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়। আগের দিন এ সংখ্যা ছিল মাত্র পাঁচজন। অথচ ইসরাইলি কর্মকর্তারা প্রতিদিন উভয় দিক থেকে অন্তত ৫০ জনকে যাতায়াতের অনুমতির কথা বলেছিলেন।

খৌদারি বলেন, “রাফাহ সীমান্তে কেন এভাবে বিলম্ব হচ্ছে, তার কোনো ব্যাখ্যা নেই। পুরো প্রক্রিয়াটিই অত্যন্ত ধীরগতির।”

তিনি আরো জানান, সীমান্ত পার হওয়ার সময় ফিলিস্তিনিদের সব মালামাল রেখে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। প্রায় দুই বছর ধরে রাফাহ সীমান্ত বন্ধ ছিল।

বর্তমানে গাজায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ জরুরি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানান তিনি।

‘যুদ্ধবিরতি’র মধ্যেও প্রাণহানি

এদিকে তথাকথিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেই খান ইউনিসের কাছে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে ১৯ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার নাসের হাসপাতাল জানিয়েছে, ঘটনাটি এমন একটি এলাকায় ঘটেছে যা ইসরাইলি বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত অক্টোবরের মাঝামাঝি যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত ৫২৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

ইসরাইলি অভিযানে গাজার অধিকাংশ হাসপাতাল ও চিকিৎসা অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় গুরুতর আহত ও দীর্ঘমেয়াদি রোগীরা ভেতরে চিকিৎসার কোনো সুযোগ পাচ্ছেন না।

৩৭ বছর বয়সী আহত ফিলিস্তিনি শাদি সোবোহ বলেন, হাড় প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচারের জন্য অনুমতি পাওয়ার পরও তিনি গত ১০ মাস ধরে অপেক্ষা করছেন।

তিনি প্রশ্ন করেন, “বিশ্ব কোথায়? তারা কি আমার পা কেটে ফেলার অপেক্ষায় আছে?”

গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালক মুহাম্মদ আবু সালমিয়া ইসরাইলের প্রতি দ্রুত ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রবেশের অনুমতির আহ্বান জানিয়ে বলেন, রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া কার্যত তাদের মৃত্যুদণ্ড দেয়ার শামিল।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপ অনুযায়ী গত অক্টোবরের মাঝামাঝি রাফাহ সীমান্ত পুনরায় খোলার কথা ছিল। তবে গাজায় আটক ইসরাইলি বন্দিদের লাশ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত সীমান্ত খুলতে অস্বীকৃতি জানায় ইসরাইল। সর্বশেষ পণবন্দীর লাশ তারা পায় গত ২৬ জানুয়ারি।

সূত্র: আল জাজিরা।