নির্বাচনের প্রচারণায় দুই বড় দলের প্রধান নেতার পরস্পর বিরোধী বক্তব্য তাদের প্রচারণার রাজনৈতিক কৌশল বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রংপুর সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে এক মতিবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আমরা নিঃসন্দেহে বলব যে, আমাদের রাজনীতির সংস্কৃতিতে ও আমাদের ভোটের সংস্কৃতিতে একটা বড় ধরনের পরিবর্তন, আর এখন যদি বলেন, প্রধান দুই দলের নেতারা পরস্পরবিরোধী কথা বলছেন বা একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে বলছেন, আমরা কি এটাকে ভোটযুদ্ধ বলব? এটা শুধুমাত্র তাদের একটা রাজনৈতিক কৌশল।’
তিনি বলেন, ‘দলগুলোর মধ্যে ক্ল্যাশ সৃষ্টির মতো কোনো কিছু আমরা লক্ষ্য করিনি। আমরা বলব, একটা ভোট যুদ্ধ চলছে। উনারা যেভাবে কথা বলছেন, এটা উনাদের একটা রাজনৈতিক কৌশল মাত্র।’
তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে ইসি কোনো চাপে নেই। আমাদের তরফ থেকে স্পষ্ট বার্তা হবে, এখন যে বা যারাই আন্দোলন করেন, এসব কিছু নির্বাচনের প্রতিকূলে যায়। আমরা এ ধরনের সব আন্দোলনের বিরোধী। আমরা তাদেরকে আহ্বান জানাবো, নির্বাচন বান্ধব একটা সুষ্ঠু পরিবেশ যাতে থাকে সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আপনারা আপনাদের কার্যক্রম গ্রহণ করবেন।’
ইসি মাছউদ বলেন, ‘আমরা নির্বাচনে কোনো ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং দেখছি না। আমরা বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছি, আমাদের সব রিটার্নিং অফিসার ও সহাকারী রিটার্নিং অফিসার, নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত প্রায় আঠারো লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী, সেনাবাহিনী, পুলিশবাহিনী, বর্ডার গার্ড (বিজিবি), আনসার সবাই এখন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। জাতিকে একটা ভালো নির্বাচন দেয়ার জন্য যে ধরনের মানসিকতা দরকার, তাদের মধ্যে সেই মানসিকতা আমরা লক্ষ্য করেছি। তুলনামূলকভাবে আইন শৃঙ্খলা যথেষ্ট ভালো আছে। নির্বাচনের জন্য যথেষ্ট সহায়ক পরিবেশ বিরাজ করছে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’
ইসি বলেন, ‘তফশিল ঘোষণার পর কিছু ঘটনা ঘটেছে। হাদি সাহেবের কথা বলতে পারবেন। আমরা নির্বাচন কমিশন থেকে সব সময় বলে আসছি, সব ধরনে সহিংসতা বর্জিত একটা দেশ থাকবে। সব ধরনের হত্যার আমরা নিন্দা জানাই এবং আপনারা দেখবেন, জনাব হাদির হত্যার জন্য আমরা নিন্দা জানিয়েছি। আইনশৃঙ্খলা বিভাগকে বা যারা তদন্তের কাজে জড়িত তাদেরকে বলা হয়েছে, আপনারা সুষ্ঠু তদন্ত করুন, অপরাধীকে আইনের হাতে সোপর্দ করুন এবং আইন মোতাবেক তার শাস্তি নিশ্চিত করুন। আমরা আগেও বলেছি, আজকেও আপনাদের মাধ্যমে আমরা এ আহ্বান জানাচ্ছি।’
রংপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল আহসানের সভাপতিত্বে সভায় জেলা আইনশৃঙখলা রক্ষাকারী সেল, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম, নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি, জেলার ৬টি আসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।



