এসএমই মালিকদের সাথে বিজিএমইএ’র সভা

‘দেশে আর একটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি তৈরি পোশাক কারখানাও বন্ধ হবে না’

‘দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এখনই সময় এফওসি নীতিমালা সংশোধন করার।’

নূরুল মোস্তফা কাজী, চট্টগ্রাম ব্যুরো

Location :

Chattogram

দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকদের প্রধান সংগঠন- বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, বর্তমান বোর্ডের সময়ে আর কোনো ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানা বন্ধ হবে না এবং এ বিষয়ে সরকারের সাথে ইতিবাচক আলোচনা চলছে।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাত একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কয়েকটি ব্যাংক একীভূত হওয়ার কারণে ব্যাংকিং কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। অনেক ব্যাংক ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খুলতে পারছে না এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন দিতে পারছে না। যার ফলে এসএমই কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এখনই সময় এফওসি নীতিমালা সংশোধন করার। এ বিষয়ে বিজিএমইএ দৃঢ়ভাবে কাজ করছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুনরায় চালু করে এফওসির মাধ্যমে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে এবং এফওসি’র বিদ্যমান সীমা তুলে দেয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এফওসি সংক্রান্ত যে বাধাগুলো রয়েছে সেগুলো দূর করতে পারলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানাগুলো।’

বিজিএমইএ’র উদ্যোগে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) মালিকদের সঙ্গে তৈরি পোশাক শিল্পখাতের বর্তমান পরিস্থিতি, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা ও করণীয় বিষয়ে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

রোববার সন্ধ্যায় বিজিএমইএ চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিজিএমইএ ভবনে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান।

প্রধান অতিথি আরো জানান, বিজিএমইএ’র পরিচালক মো: সাইফ উল্যাহ মানসুরের প্রস্তাবে এসএমই খাতের জন্য একটি পৃথক পলিসি গাইডলাইন প্রণয়নের কাজ চলছে এবং এ বিষয়ে তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, ব্যাংকিং জটিলতা, এনবিআর ও কাস্টমস্ প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং বিভিন্ন নীতিগত সীমাবদ্ধতার কারণে এসএমই ভিত্তিক পোশাকশিল্প নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এসএমই খাতকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে দ্রুত ও কার্যকর নীতি সহায়তা প্রদান জরুরি। সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা, কাস্টমস্ প্রক্রিয়া সহজীকরণ, বন্ড সুবিধা সম্প্রসারণ এবং রফতানি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে এই খাত আবারো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে সকল অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’

সভায় এসএমই উদ্যোক্তারা তাদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয় বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। এ সময় বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি ও সহ-সভাপতি তাদের বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।

সভায় জানানো হয়, বিজিএমইএ’র উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে রয়েছে— বিআরডিপি-৭ সার্কুলারের অধীনে এসএমই সুবিধাসমূহ অন্তর্ভুক্তিকরণ, নন-বন্ডেড এমএমই আমদানির জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি সুবিধা চালু, এসএমই প্রণোদনার ধারাবাহিকতা নিশ্চিতকরণ, এসএমই প্রণোদনা তহবিল বিতরণ এবং মাসিক ভিত্তিতে প্রণোদনা প্রদানের উদ্যোগ, যা এসএমই কারখানাগুলোর নগদ প্রবাহ স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে। এছাড়াও এসএমই কারখানাগুলোর জন্য স্যালারি সাপোর্ট লোন সুবিধাও প্রদান করা হয়েছে।

সভায় বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী, পরিচালকবৃন্দ এমডি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, মো: সাইফ উল্যাহ মানসুর, এনামুল আজিজ চৌধুরী, সাবেক পরিচালকবৃন্দ, এসএমই বিষয়ক স্থায়ী কমিটির উপদেষ্টা খন্দকার বেলায়েত হোসেন, চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল শুক্কুর, কো-চেয়ারম্যানবৃন্দ, সদস্যবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মালিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।