ব্রিতে ৬ দিনব্যাপী বার্ষিক গবেষণা কর্মশালার উদ্বোধন

‘কৃষির উন্নয়নে নীতিনির্ধারক, বিজ্ঞানী, সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, কৃষক প্রতিনিধি ও কৃষি সংশ্লিষ্ট সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। তাহলে কৃষিকে আমরা অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারব। আমি কৃষি খাতের উন্নয়নের জন্য সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানসহ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

মোহাম্মদ আলী ঝিলন, গাজীপুর
ব্রিতে ছয় দিনব্যাপী বার্ষিক গবেষণা কর্মশালার উদ্বোধন বক্তব্য রাখছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব এমদাদ উল্লাহ
ব্রিতে ছয় দিনব্যাপী বার্ষিক গবেষণা কর্মশালার উদ্বোধন বক্তব্য রাখছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব এমদাদ উল্লাহ |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ব্রি) ছয় দিনব্যাপী ‘বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালা ২০২৪-২৫’-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে গাজীপুরে ব্রি সদর দফতর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান।

ব্রির মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মো: ওসমান ভুইয়া, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো: আবদুছ ছালাম ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো: আব্দুর রহিম।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতিসঙ্ঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিয়াওকুন শি, সিআইএমএমওয়াইটি-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. ওয়েন ডানকান কালভার্ট ও আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. হোমনাথ ভান্ডারি।

কর্মশালায় গবেষণা অগ্রগতি ও অর্জন ২০২৪-২৫ উপস্থাপন করেন ব্রির পরিচালক (গবেষণা) ড. মো: রফিকুল ইসলাম এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন পরিচালক (প্রশাসন ও সাধারণ পরিচর্যা) ড. মুন্নুজান খানম।

অনুষ্ঠানে কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেন, ‘কৃষিই বাংলাদেশের উন্নয়নের রানওয়ে। এ খাতকে বাদ দিয়ে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। অঞ্চলভিত্তিক জাত উদ্ভাবন ও কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কৃষির উন্নয়নে নীতিনির্ধারক, বিজ্ঞানী, সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, কৃষক প্রতিনিধি ও কৃষি সংশ্লিষ্ট সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। তাহলে কৃষিকে আমরা অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারব। আমি কৃষি খাতের উন্নয়নের জন্য সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানসহ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

কৃষি সচিব বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের সারের কোনো অভাব নেই। তবে বিতরণ ব্যবস্থায় কিছু সমস্য আছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা ইতোমধ্যেই কাজ করছি। আর উত্তরাঞ্চলের তামাক ও চা চাষের জন্য আমরা অবশ্যই ভর্তুকি মূল্যে সার দেবো না।’

তিনি আরো বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলে আমাদের ধানের জমিগুলোতে তামাক ও চায়ের চাষ হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমাদের পলিসি নির্ধারণ করতে হবে। দেশের সকল কৃষককে একইভাবে ভর্তুকি দেয়া যাবে না। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কৃষককে নির্দিষ্ট ফসল উৎপাদনে ভর্তুকি দেয়া হবে। দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে কৃষির ভূমিকার দিকেও সংশ্লিষ্টদের কাজ করতে হবে।’

ব্রির মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান বলেন, ‘১৮ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্রি নিরলসভাবে কাজ করছে। ব্রির গবেষণা কার্যক্রম বিশ্বের কাছে উদাহারণ।’

ভিটামিন ও পুষ্টি সমৃদ্ধ ধানের জাত উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরে ব্রির মহাপরিচালক বলেন, ‘ভাতের মাধ্যমে পুষ্টি চাহিদা পূরণে ব্রি গবেষণা জোরদার করতে হবে।’

কর্মশালায় ব্রি, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বিএআরসি, ডিএই, ইরিসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা যোগ দেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধান গবেষণা ও সম্প্রসারণ কাজের অর্জন ও অগ্রগতির বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

ব্রি এ পর্যন্ত আটটি হাইব্রিডসহ মোট ১২১টি উফশী ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে যার মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিকূল পরিবেশ সহনশীল এবং উন্নত পুষ্টিগুণ সম্পন্ন।