পদ্মাসেতুতে ২৪ ঘণ্টায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার বেশি টোল আদায়

গত ২৪ ঘণ্টায় টোল আদায়ে সর্বোচ্চ চতুর্থ রেকর্ড গড়েছে পদ্মাসেতু কর্তৃপক্ষ। এ দিন পদ্মাসেতুতে মাওয়া ও জাজিরা প্রান্ত দিয়ে মোটরসাইকেলসহ মোট ৪১ হাজার ৮৮৫টি যানবাহন পারাপার করা হয়। এতে মোট টোল আদায় হয়েছে চার কোটি ৫৪ লাখ পাঁচ হাজার ২৫০ টাকা।

গোলাম মঞ্জুরে মাওলা অপু, লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ)

Location :

Munshiganj
পদ্মাসেতু টোলপ্লাজা
পদ্মাসেতু টোলপ্লাজা |নয়া দিগন্ত

কর্মব্যস্ত রাজধানী ছেড়ে আসা ঘরমুখো মানুষের নাড়ির টানে শেষ মুহূর্তের ছুটে চলা যেন থেমে নেই। পরিবারের সান্নিধ্যে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৩ জেলার ঘরমুখো মানুষ ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে এখনো ছুটে চলেছেন নিজ গন্তব্যে। রাজধানী ছেড়ে আসা ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রায় ছুটির তৃতীয় দিনেও ভোর থেকে পদ্মাসেতুর টোলপ্লাজায় যান চলাচল আগের দিনের মতোই অব্যাহত থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে। তবে টোলপ্লাজায় আসা যানবাহনগুলো নির্বিঘ্নে সেতু পারাপারে সক্ষম হওয়ায় নেই জনভোগান্তি ।

এদিকে পদ্মাসেতুতে গত ২৪ ঘণ্টায় টোল আদায়ে সর্বোচ্চ চতুর্থ রেকর্ড গড়েছে পদ্মাসেতু কর্তৃপক্ষ। এ দিন পদ্মাসেতুতে গত ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া ও জাজিরা প্রান্ত দিয়ে মোটরসাইকেলসহ মোট ৪১ হাজার ৮৮৫টি যানবাহন পারাপার করা হয়। এতে মোট টোল আদায় হয়েছে চার কোটি ৫৪ লাখ পাঁচ হাজার ২৫০ টাকা।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে সেতু কর্তৃপক্ষের পদ্মাসেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় নয়া দিগন্তকে জানান, এটি এ পর্যন্ত টোল আদায়ের সর্বোচ্চ চতুর্থ রেকর্ড।

এর আগে, মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া ও জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ৩৮ হাজার ৫১৭টি যানবাহন পারাপার করা হয়। এতে টোল আদায় হয়েছে চার কোটি ১৮ লাখ ৬০ হাজার ৯০০ টাকা। এ নিয়ে গত দু’দিনে ৮০ হাজার ৪০০ যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে আট কোটি ৭২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের টোল রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৬ জুন সেতু চালু হওয়ার পর একদিনে সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড হয়েছিল ২০২৪ সালের ৯ এপ্রিল। সেদিন মোট ৪৫ হাজার ২০৪টি যানবাহন থেকে চার কোটি ৮৯ লাখ ৯৪ হাজার ৭০০ টাকা টোল আদায় হয়েছিল।

একই বছরের ১৪ জুন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড ভেঙে যায়। এদিন ৪৪ হাজার ৩৩টি যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে চার কোটি ৮০ লাখ ৩০ হাজার ১০০ টাকা।

আর ২০২৩ সালের ২৭ জুন সেতু দিয়ে ৪৩ হাজার ১৩৭টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল। এদিন টোল আদায় হয়েছিল চার কোটি ৬০ লাখ ৫৩ হাজার ৩০০ টাকা।

পরবর্তীতে চলতি ঈদের ছুটির দ্বিতীয় দিনে গত বুধবার ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ২৮ হাজার ৩৯০টি ও জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ১৩ হাজার ৪৯৫টিসহ মোট ৪১ হাজার ৮৮৫টি যানবাহন পারাপার করা হয়। এতে মোট টোল আদায় হয়েছে চার কোটি ৫৪ লাখ পাঁচ হাজার ২৫০ টাকা। এটি এ পর্যন্ত টোল আদায়ের সর্বোচ্চ ৪র্থ রেকর্ড বলে জানা যায়।

সেতু চালুর পর এখন পর্যন্ত এ চার দিন ছিল টোল আদায়ের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

এর আগে, ২০২৪ সালের ১৫ জুন চতুর্থ সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড অনুযায়ী ৩৯ হাজার ২৬টি যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছিল চার কোটি ২৯ লাখ ১১ হাজার ৩০০ টাকা। তবে আগের ঐ রেকর্ড ভেঙে গত বুধবার নতুন রেকর্ড গড়ে সেতু কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন টার্মিনাল ছেড়ে আসা দক্ষিণবঙ্গগামী গণপরিবহনগুলো পদ্মাসেতুর টোলপ্লাজা হয়ে চলাচল বেড়েছে। বৃহস্পতিবারও এসব গণপরিবহনের পাশাপাশি মোটরসাইকেলসহ ব্যক্তিগত যানবাহনের চলাচল গত কয়েকদিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ টোলপ্লাজায় মোটরসাইকেলের জন্য মাওয়া প্রান্তেই তিনটি সাময়িক বুথসহ উভয় প্রান্তে মোট ১৯টি টোলবুথ সচল রাখায় নির্বিঘ্নে সেতু পাড়ি দিতে সক্ষম হচ্ছে এসব যানবাহন।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৩টি জেলার অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে। ২০২২ সালের ২৬ জুন পদ্মার বুক মাওয়া-জাজিরা পয়েন্টে চালু হয় দেশের অন্যতম বৃহৎ মেগা প্রকল্প পদ্মা বহুমুখী সেতু। প্রতি বছরই ঈদের ছুটিতে ঘরমুখো মানুষের গণপরিবহনের বাড়তি চাপ দেখা দেয় এখানে। তবে স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের সমন্বিত নিবিড় তদারকির ফলে এই ঈদে যানবাহনের বাড়তি চাপ সামাল দিতে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার বেগ পেতে হচ্ছে না পদ্মাসেতু কর্তৃপক্ষকে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই সেতু পাড়ি দিচ্ছে এসব যানবাহন। এতে করে পদ্মাসেতুর টোলপ্লাজায় যানবাহনের সারি বা যানজটে আটকে থাকার কোনো জনভোগান্তি এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি।

সেতু কর্তৃপক্ষের পদ্মাসেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় নয়া দিগন্তকে জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেও যানবাহনের চলাচল এখন পর্যন্ত আগের দিনের মতোই রয়েছে। তবে টোলপ্লাজায় আসা যানবাহনগুলো নির্বিঘ্নে সেতু পারাপার হচ্ছে।