ব্রিতে পরীক্ষা না দিয়েই ৭ লাখ টাকায় নিয়োগপত্র, অতঃপর জেলখানায়

সুজা মিয়া ৩ ফেব্রুয়ারি নিয়োগপত্র পান এবং রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ব্রির বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ে যোগ দিতে গেলে তাকে গাজীপুরের সদর দফতরে যোগাযোগ করতে বলা হয়। সদর দফতরে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে দেখে বিস্মিত হন। পরে কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায়, সুজা মিয়ার এডমিট কার্ডে জনৈক মিলন মিয়ার ছবি সংযুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ তার হয়ে সব পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন অন্য ব্যক্তি।

মো: আজিজুল হক, গাজীপুর মহানগর

Location :

Gazipur
আটক সুজা মিয়া
আটক সুজা মিয়া |নয়া দিগন্ত

লিখিত, ভাইবা কিংবা প্র্যাকটিক্যাল কোনো পরীক্ষাতেই নিজে অংশ নেননি, তবুও হাতে নিয়োগপত্র নিয়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে এসে শেষ পর্যন্ত ধরা পড়লেন এক প্রার্থী। ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ব্রি)।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে ব্রির প্লাম্বার পদে যোগদান করতে আসেন সুজা মিয়া (৩২)। তিনি শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার কুকড়া পাড় গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে।

ব্রি সূত্র জানায়, দু’টি প্লাম্বার পদসহ মোট ১৯টি শূন্য পদে ৩১ জন জনবল অস্থায়ীভাবে নিয়োগের জন্য গত বছরের ৫ অক্টোবর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে উত্তীর্ণদের যোগদানের চিঠি পাঠানো হয়। সুজা মিয়া ৩ ফেব্রুয়ারি নিয়োগপত্র পান এবং রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ব্রির বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ে যোগ দিতে গেলে তাকে গাজীপুরের সদর দফতরে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

সদর দফতরে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে দেখে বিস্মিত হন। পরে কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায়, সুজা মিয়ার এডমিট কার্ডে জনৈক মিলন মিয়ার ছবি সংযুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ তার হয়ে সব পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন অন্য ব্যক্তি।

জিজ্ঞাসাবাদে সুজা মিয়া দাবি করেন, তিনি মিলন মিয়াকে চেনেন না। শ্রীবরদী এলাকার মাহবুব নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে সাত লাখ টাকার বিনিময়ে তিনি চাকরিটি পান বলে জানান। পরে তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে সুজা মিয়া আটক হওয়ার খবর পেয়ে তার ভাইরা ভাই সজল মিয়া শাশুড়িকে সাথে নিয়ে ব্রি সদর দফতরে তাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে আসেন।

জানা গেছে, সজল মিয়ার বাড়ি ব্রির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার গ্রামের বাড়ির পাশেই। বিষয়টি ঘিরে বিভিন্ন মহলে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে সজল মিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি গাজীপুর মহানগরের হায়দরাবাদ এলাকায় শ্বশুরবাড়ির পাশে ভাড়া থাকেন। সুজা মিয়া আগের রাতে তার বাসায় এসেছিলেন। সকালে ব্রিতে যোগ দিতে গিয়ে আটক হয়েছেন। এ খবর পেয়ে তিনি দেখা করতে এসেছেন মাত্র।

ঘটনার সময় ব্রির মহাপরিচালক ড. খালেকুজ্জামান অফিসে উপস্থিত ছিলেন না। মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে জানান।

এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ব্রি কর্তৃপক্ষ নিয়োগ জালিয়াতির ঘটনায় সুজা মিয়া নামের একজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Topics