গাজীপুরে ছোট ভাইকে ‘ভয় দেখাতে’ নিয়ে হত্যা : বড় ভাইসহ গ্রেফতার ২

নিহত আঃ রাহিম (১৩) গাজীপুর সদর উপজেলার জয়দেবপুর থানার ডগরী নয়াপাড়া এলাকার নুরুল ইসলাম ওরফে কোহিনূরের ছেলে। সে স্থানীয় নয়াপাড়া এবাদিয়া দাখিল মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।

Location :

Gazipur
গাজীপুরে ছোট ভাই হত্যায় গ্রেফতার বড় ভাই ও তার সহযোগী
গাজীপুরে ছোট ভাই হত্যায় গ্রেফতার বড় ভাই ও তার সহযোগী |নয়া দিগন্ত

গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরে মোবাইল ফোন কেনার বায়না ধরাকে কেন্দ্র করে ছোট ভাইকে ভয় দেখানোর পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে গড়ায়। বড় ভাই ও তার দুই বন্ধুর নির্যাতনে নিহত হয় ১৩ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্র। ঘটনার ২৫ দিন পর শালবন থেকে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই ও তার এক বন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বুধবার (৪ মার্চ) গাজীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন এসব তথ্য জানান।

নিহত আঃ রাহিম (১৩) গাজীপুর সদর উপজেলার জয়দেবপুর থানার ডগরী নয়াপাড়া এলাকার নুরুল ইসলাম ওরফে কোহিনূরের ছেলে। সে স্থানীয় নয়াপাড়া এবাদিয়া দাখিল মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।

গ্রেফতারকৃতরা হলো— নিহতের বড় ভাই মো. আলামিন হোসেন (২৩) এবং একই এলাকার কাজী নজরুল ইসলামের ছেলে আশিক আহমেদ (২০)।

পুলিশ সুপার জানান, গত ১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রাহিম নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি তার বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। নিখোঁজের প্রায় ২৫ দিন পর, ২৬ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় একটি রিসোর্টসংলগ্ন গভীর শালবন থেকে আংশিক মাটিচাপা অবস্থায় অর্ধগলিত একটি লাশ উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, কয়েকজন কিশোর টিকটক ভিডিও করতে গিয়ে দুর্গন্ধ পেয়ে অনুসন্ধান চালালে লাশটি দেখতে পায়। নিহতের পরনের পোশাক দেখে তার বাবা রাহিমকে শনাক্ত করেন। পরে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আলামিন ও তার বন্ধু আশিককে মঙ্গলবার গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করলে তারা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

পুলিশ জানায়, মোবাইল ফোন কিনে দেয়ার বায়না ধরে রাহিম চিৎকার-চেঁচামেচি করলে বড় ভাই আলামিন তাকে ‘ভয় দেখাতে’ বন্ধু আশিক ও সুমনের সাথে পরিকল্পনা করে। গত ১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে তারা রাহিমকে শালবনের গভীরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মাফলার দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে নির্যাতন করা হয়।

একপর্যায়ে রাহিম বিষয়টি বাবাকে জানিয়ে দেয়ার কথা বললে আতঙ্কিত হয়ে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। আলামিন রাহিমকে মাটিতে ফেলে গলাটিপে হত্যা করে। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে পাশেই গর্ত খুঁড়ে মাটিচাপা দেয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে পালানোর সময় রাহিমের জ্যাকেট বড়চালা এলাকার তিন রাস্তার মোড়ে পুড়িয়ে ফেলা হয় বলে স্বীকার করেছে আসামিরা।

পুলিশ সুপার বলেন, নিখোঁজের পর থেকেই বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হয়। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবুল খায়ের, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. মোজাম্মেল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. মাহবুবুর রহমান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) লিপি রানী সিনহা উপস্থিত ছিলেন।