মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ‘নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী দেশের প্রান্তিক খামারি ও উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে কাজ করছে সরকার।’
তিনি বলেন, ‘সরকার নিরাপদ ও মানসম্মত প্রাণিখাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করা, উপজেলা পর্যায়ে খামারিদের প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে।’
সোমবার (৯ মার্চ) বিকেলে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বাণিজ্যিকভাবে মহিষ পালনে উদ্যোক্তা উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পোলট্রি ও ডেইরি খাতের প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছে সহজলভ্য করা এবং এ খাতকে একটি শিল্পে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য। নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা এবং ভ্যাকসিন কর্মসূচি জোরদারের মাধ্যমে প্রান্তিক খামারিদের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার।’
তিনি বলেন, ‘দেশের প্রোটিন চাহিদা পূরণে পোলট্রি ও ডেইরি খাতের পাশাপাশি মহিষ পালন সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। মহিষের গোশত পুষ্টিকর ও দুধ উৎপাদনেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে মহিষ পালনে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়াতে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘গরুর তুলনায় মহিষ দুধ উৎপাদনে অধিক সক্ষম হওয়ায় মহিষের সংখ্যা ও খামারি বাড়াতে হবে এবং এ বিষয়ে মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন ও খামারিদের সহায়তা দিতে সরকার ইতোমধ্যে কৃষক ও খামারিদের মধ্যে ফার্মার্স কার্ড বিতরণের কার্যক্রম শুরু করছে।’
প্রতিমন্ত্রী সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত খামারিদের একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হলে ভবিষ্যতে তাদের বিভিন্ন সরকারি সহায়তা প্রদান সহজ হবে এবং খামারের পরিধি বাড়িয়ে তারা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন।’
তিনি বলেন, ‘গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করা এবং এ খাতে পর্যাপ্ত বাজেট নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদনশীলতা আরো বৃদ্ধি পায়।’
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক সভাপতিত্ব করেন। এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও খামরীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, প্রতিমন্ত্রী ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় সাংবাদিক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেশে মহিষ পালন ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দুধ ও মাংস উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে দুধ উৎপাদনের একটি বড় উৎস মহিষ হলেও বাংলাদেশে এ খাতে এখনো পিছিয়ে আছে। তাই উন্নত জাতের মহিষ সংগ্রহ, বাছুর খামারিদের মধ্যে বিতরণ এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মহিষ পালন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’
প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় দুই ব্যাচে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ১০০ জন খামারি ও উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণে মহিষ পালনে বিএলআরআই উদ্ভাবিত বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, মহিষ পালনে খাদ্য ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, রোগ প্রতিরোধে করণীয়, ফডার চাষ ও সংরক্ষণ, মহিষের প্রজনন ব্যবস্থাপনা, খামারের বর্জ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানীগণ প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করছেন।



