শরিয়তপুরের কিরণকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান এলাকাবাসী

ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে শফিকুর রহমান কিরণের রাজনৈতিক পথচলা শুরু। পরবর্তী সময়ে তিনি শরীয়তপুরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

মো: বোরহান উদ্দিন রব্বানী, শরীয়তপুর

Location :

Shariatpur
শফিকুর রহমান কিরণ
শফিকুর রহমান কিরণ |সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও উন্নয়নবঞ্চিত শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া সখিপুর অঞ্চলসহ জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির লক্ষ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরণকে মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে দেখতে চান এলাকার সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, শরীয়তপুরের উন্নয়নে জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠ সহচর কিরণের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি প্রয়োজন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে শফিকুর রহমান কিরণের রাজনৈতিক পথচলা শুরু। পরবর্তী সময়ে তিনি শরীয়তপুরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে তিনি সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী মরহুম আব্দুর রাজ্জাকের বিপক্ষে শরীয়তপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। ২০০৮ সালে আসন পুনর্বিন্যাসের পর শরীয়তপুর-২ আসন থেকে মরহুম কর্নেল (অব.) শওকত আলীর বিপক্ষে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়কার রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরাজয়ের মুখে পড়েন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে রাতের ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে পরাজয় বরণ করেন শফিকুর রহমান কিরণ।

তিনি রাজনীতির পাশাপাশি একজন শিক্ষানুরাগী হিসেবেও এলাকায় বেশ পরিচিত। ১৯৯৪ সালে তিনি নিজস্ব অর্থায়নে সখিপুর এলাকায় একটি হাবিবুল্লাহ ডিগ্রি কলেজ, ১৯৯৭ সালে একই উপজেলার দক্ষিণ তারাবুনিয়ায় কিরণ নগর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় এবং ২০২২ সালে বালার বাজার এলাকায় শরিয়তুন হাবিব নামে একটি কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও ২০২৪ সাল থেকে নিজস্ব অর্থায়নে সখিপুরের বালার বাজার এলাকায় একটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও একটি মেরিন একাডেমি নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-২ আসন নড়িয়া-সখিপুর থেকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়ে বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের রাজনীতিতেও আলোচনার শীর্ষে উঠে আসেন।

তিনি তার নির্বাচনী ইশতেহারে নড়িয়া ও সখিপুরের ২৪টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের ঘোষণা দেন, যা স্থানীয় তরুণ সমাজ ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি করেছে। নির্বাচনের পরপরই এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মনে করেন দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, একজন শিক্ষানুরাগী, দুঃসময়ে দলের প্রতি অবিচল অবস্থান এবং তৃণমূল পর্যায়ে শক্ত সংগঠনিক ভিত্তির কারণে শফিকুর রহমান কিরণ জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে উপযুক্ত।

সখিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাক আহাম্মেদ মাসুম বালা বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে নড়িয়া ও সখিপুরসহ শরীয়তপুর জেলায় আশানুরূপ উন্নয়ন অগ্রগতি হয়নি। বিশেষ করে সড়ক যোগাযোগ, নদীভাঙন প্রতিরোধ, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, আধুনিক হাসপাতাল ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেনি এখানে। শফিকুর রহমান কিরণ জিয়া পরিবারের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে দলের দুঃসময়ে মাঠে থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতার ফলেই এবারের নির্বাচনে ভোটাররা তার পক্ষে রায় দিয়েছেন। তিনি মন্ত্রিপরিষদে থাকলে পুরো জেলার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন বলেই আমরা তাকে মন্ত্রিপরিষদে চাই।’

নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহম্মেদ রয়েল মাঝি বলেন, ‘শুধু সংসদ সদস্য থাকলেই এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। শরীয়তপুরের মতো অবহেলিত জেলার জন্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ে শক্ত অবস্থান দরকার। আওয়ামী লীগের এ দুর্গে তিলে তিলে বিএনপির ভীত গড়ে তুলেছেন নবনির্বাচিত এমপি সফিকুর রহমান কিরণ। ফরিদপুর অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে বিজয় অর্জন করেছেন। প্রায় তিন যুগ সময় ধরে শরীয়তপুর জেলায় বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। আওয়ামী লীগের ১৬ বছর অত্যাচার নির্যাতনের দিনগুলোতে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে একাধিক মামলা, রাজনৈতিক চাপ ও প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি এলাকায় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সচল রেখেছেন। শফিকুর রহমান কিরণ মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পেয়ে এই জেলার বাস্তব সমস্যাগুলো সরাসরি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তুলে ধরবেন।’

এ বিষয়ে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো: আলী হায়দার খান বলেন, ‘শফিকুর রহমান কিরণ সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক বিচক্ষণতা এবং সাধারণ মানুষের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণে জাতীয় নেতৃবৃন্দের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। শফিকুর রহমান কিরণ মন্ত্রিসভার সদস্য হলে পদ্মা-মেঘনা নদী বেষ্টিত শরীয়তপুর জেলার চারটি উপজেলার নদীভাঙন রোধে কার্যকর ভূমিকা পালনে নড়িয়া-সখিপুরসহ শরীয়তপুরকে একটি টেকসই উন্নয়ন অঞ্চলে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।