জনসভা শেষে মাঠ পরিষ্কার করে প্রশংসিত জামায়াত নেতাকর্মীরা

‘ইতোপূর্বেও অন্য আরো অনেক দলের জনসভা হয়েছে। তবে মাঠ পরিষ্কারের দায়িত্ব কেউ নেয়নি। এই ধরনের কার্যক্রম রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় এবং দায়িত্বশীল রাজনীতির একটি ভালো উদাহরণ হয়ে থাকবে।’

মোহাম্মদ আলী ঝিলন, গাজীপুর

Location :

Gazipur
ছবি : নয়া দিগন্ত

নির্বাচনী জনসভা শেষে মাঠের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে দায়িত্বশীল রাজনীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার গাজীপুরের ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে গিয়ে দেখা গেছে- জামায়াতের নেতাকর্মীরা মাঠজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তারা স্থানীয় ২৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী। ঘটনাটিকে সংগঠনের নেতাকর্মীদের পরিচায়ক বলে প্রশংসা করছেন স্থানীয় নাগারিকরা।

নেতাকর্মীরা জানান, জামায়াতে ইসলামী একটি পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকে এই উদ্যোগ নিয়েছে।

গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজবাড়ী মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের বিশাল নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন। ওই জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি মাঠজুড়ে ময়লা-আবর্জনার সৃষ্টি করে। এজন্য জনসাধারণের ব্যবহার উপযোগী রাখতে এবং পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা থেকে নিজেরাই মাঠ পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন জামায়াত নেতাকর্মীরা।

জামায়াত নেতারা বলেন, শুধু বক্তৃতা বা রাজনৈতিক কর্মসূচিই নয়, সমাজ ও পরিবেশের প্রতিও দায়িত্বশীল থাকা জরুরি। জনসভা শেষে মাঠ পরিষ্কার করাও রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও নাগরিক দায়িত্বের অংশ বলে মনে করি।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা উদ্যোগটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। অনেকেই বলছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির পর এমন পরিচ্ছন্নতা অভিযান সচরাচর দেখা যায় না। এতে রাজনীতিবিদদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়বে এবং তরুণ প্রজন্মের কাছেও একটি ভালো বার্তা যাবে ।

স্থানীয়দের মতে, ইতোপূর্বেও অন্য আরো অনেক দলের জনসভা হয়েছে। তবে মাঠ পরিষ্কারের দায়িত্ব কেউ নেয়নি। এই ধরনের কার্যক্রম রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় এবং দায়িত্বশীল রাজনীতির একটি ভালো উদাহরণ হয়ে থাকবে।