ভোলার লালমোহন উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে মোসা: রুনা বেগম (১৭) নামে এক গৃহবধূকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে তার স্বামী। ঘটনার পর ওই গৃহবধূর স্বামী মো: জিহাদ পালিয়ে গেলেও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে আটক করে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ভোর রাতে ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা লঞ্চঘাট থেকে তাকে আটক করে র্যাব ও পুলিশের যৌথ টিম।
আটক জিহাদ একই ইউনিয়নের পাঙাশিয়া এলাকার মো: আলমগির হোসেনের ছেলে।
এর আগে, বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গণেশপুর এলাকায় ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূ রুনা ওই এলাকার মো: হাফিজুর রহমানের মেয়ে।
জানা গেছে, রুনা ও জাহিদ সর্ম্পকে মামাতো-ফুফাতো ভাই-বোন। তবে গত সাত মাস আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। বিষয়টি একাধিকবার পারিবারিকভাবে মীমাংসা করা হয় বলে জানা যায়।
বুধবার রুনার মা সালিশের উদ্দেশ্যে জিহাদের বাড়িতে যান। সে সময় রুনা ও জিহাদ তাদের নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সালিশের পরপরই জিহাদ রুনার বাড়িতে যান।
রুনার চাচি নূর জাহান বেগম বলেন, ‘বুধবার সন্ধ্যার দিকে রুনার ঘর থেকে শব্দ পেয়ে আমি সেখানে যাই। এরপর ঘরে ঢুকে দেখি রুনা বিছানায় পড়ে রয়েছে। তার শরীর কম্বল দিয়ে ঢাকা ছিল এবং বুকের ওপর একটি বালিশ রাখা ছিল। এরপর তাকে ডাকাডাকি করলেও তার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে কম্বল সরিয়ে দেখতে পাই রুনার গলায় নখের আঁচড়ের দাগ এবং বিছানা প্রস্রাবে ভিজে রয়েছে। তার মুখে লালা ও রক্ত ছিল। পরে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসককে খবর দিলে তিনি এসে রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: অলিউল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলায় মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে তার স্বামী জিহাদ পলাতক থাকলেও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ইলিশা লঞ্চঘাট থেকে তাকে আটক করা হয়।
তিনি আরো জানান, আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রী রুনা বেগমকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেছেন জিহাদ। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।



