জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ভিড়। প্যানিক বায়িং প্রবণতায় মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা একসাথে তেল নিতে আসায় সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ লাইন, বাড়ছে জনভোগান্তি। আবার খুচরা দোকানে তেল কিনতে অতিরিক্ত দাম দিতে হচ্ছে চালকদের।
বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলার সদর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় খান অ্যান্ড ব্রাদার্স পেট্রোল পাম্পের সামনে এই পরিস্থিতি তীব্র আকার ধারণ করে। পাম্পমুখী যানবাহনের চাপ মূল সড়কে ছড়িয়ে পড়লে রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে আটকা পড়ে শতাধিক যানবাহন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাম্পে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের সারি সড়কের ওপর ছড়িয়ে পড়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। জরুরি সেবার গাড়িও দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় পরিস্থিতি আরো সঙ্কটাপন্ন হয়ে ওঠে।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানায়, আকস্মিক এ যানজটে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সিএনজিচালিত অটোরিকশার এক যাত্রী বলেন, ‘বাজারে যাওয়ার পথে হঠাৎ তীব্র যানজটে পড়ে প্রায় আধা ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়েছে।’
অপর এক যাত্রী জানান, জরুরি কাজে বের হয়েও নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, তেল সঙ্কটের আশঙ্কায় অনেক পাম্প সীমিত পরিমাণে জ্বালানি সরবরাহ করলেও কটিয়াদীতে খান ব্রাদার্স পেট্রোল পাম্পে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছে না। আবার কোথাও সরবরাহে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। ফলে চালকেরা একসাথে পাম্পে ভিড় করছেন, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে।
কটিয়াদী উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পাম্পে তেল না থাকলেও খোলা বাজারে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অতিরিক্ত মুনাফা আদায় করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। কোথাও প্রতি লিটার পেট্রল ও অকটেন ২৩০ থেকে ২৮০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে, যা সরকার নির্ধারিত মূল্যের দ্বিগুণ। এতে সাধারণ ভোক্তারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে তেল কিনছেন।
তবে পাম্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ নয় বরং অতিরিক্ত চাহিদার কারণেই এ চাপ সৃষ্টি হয়েছে। একসাথে বিপুলসংখ্যক গ্রাহক তেল নিতে আসায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
চালকদের অনেকেই জানান, ভবিষ্যতে তেল সঙ্কট দেখা দিতে পারে— এমন আশঙ্কা থেকেই তারা অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ করছেন।
এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে ভিড়ের কারণে তেল নিতে পারেননি, তাই বাধ্য হয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে।’
এদিকে পাকুন্দিয়া থেকে রোগী নিয়ে আসা এক গাড়ির চালক অভিযোগ করেন, পাম্প এলাকায় কোনো পৃথক লেন না থাকায় জরুরি রোগী বহনকারী গাড়িও যানজটে আটকে পড়ে, যা উদ্বেগজনক।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করলে ধীরে ধীরে যানজট কমতে শুরু করে।
কটিয়াদী থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপেই সাময়িক এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার প্রভাব নিয়ে জনমনে শঙ্কা তৈরি হলেও সরকার বলছে দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবুও গুজব ও আশঙ্কার কারণে সৃষ্ট অতিরিক্ত চাহিদাই এ পরিস্থিতির জন্য মূলত দায়ী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



