মিয়ানমারের বুলেটে আহত শিশু হুজাইফার মৃত্যু

শনিবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে হুজাইফা।

হুমায়ুন কবির জুশান, উখিয়া (কক্সবাজার)

Location :

Teknaf
হুজাইফা
হুজাইফা |সংগৃহীত

মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে আসা বুলেটে আহত টেকনাফের শিশু হুজাইফা দীর্ঘ ২৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ইন্তেকাল করেছে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে হুজাইফা।

তার এই মৃত্যু আবারো আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো, মিয়ানমার সীমান্তের অস্থিরতায় কতটা অনিরাপদ হয়ে পড়েছে টেকনাফ ও উখিয়ার সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের জীবন।

গত ১১ জানুয়ারি সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় নিজের বাড়ির সামনে খেলছিল শিশু হুজাইফা। সীমান্ত পেরিয়ে আসা একটি বুলেট মুহূর্তেই তার শৈশবকে স্তব্ধ করে দেয়। মাথায় গুলি বিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনা হয়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, হুজাইফার মস্তিষ্কের এমন গভীরে বুলেটটি আটকে ছিল যে তা অস্ত্রোপচার করে বের করা অসম্ভব ছিল। ২৭ দিন যন্ত্রণার সাথে লড়াই করার পর নিথর হয়ে গেল ছোট্ট দেহটি।

হুজাইফার বাবা জসিম উদ্দিনের চোখের পানি যেন থামছেই না। হুজাইফার মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। মধ্যবিত্ত পরিবারটির স্বপ্ন আজ একটি বুলেটের আঘাতে চুরমার হয়ে গেছে।

‘আমার মেয়েটার কী দোষ ছিল? সে তো যুদ্ধ বোঝে না, সে তো রাজনীতি বোঝে না। শুধু নিজের উঠানে খেলছিল। কেন আমার কোল খালি হলো?’—মায়ের এমন আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে তেচ্ছিব্রিজ এলাকার আকাশ-বাতাস।

হুজাইফার এই মৃত্যু কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তের বাসিন্দাদের প্রাত্যহিক জীবনের চরম অনিশ্চয়তার প্রতিফলন। গত কয়েক মাস ধরে ওপারে চলমান সংঘাতের কারণে এপারে মাঝেমধ্যেই এসে পড়ছে গোলা ও গুলি। মানুষ এখন নিজের ঘরের উঠানেও নিরাপদ বোধ করছে না।

শিশুদের স্কুলে পাঠানো বা চাষাবাদের কাজে বের হওয়া এখন প্রাণনাশের আশঙ্কায় রূপ নিয়েছে। সীমান্তের ওপারে গোলার শব্দে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, আজ হুজাইফা প্রাণ হারিয়েছে, কাল হয়তো অন্য কেউ। এভাবে আর কতদিন আতঙ্কে দিন কাটাতে হবে তাদের?