ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে একই দিনে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্রসহ সাতজন নিহতের ঘটনা ঘটেছে। পৃথক এসব দুর্ঘটনায় আরো অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত পৃথক স্থানে এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় হাজেরা বেগম (৭০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন।
নিহত হাজেরা বেগম চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা।
অন্যদিকে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বড় গোবিন্দপুর এলাকায় মহাসড়ক পারাপারের সময় লরিচাপায় ইবনে তাইম (১৫) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে।
বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চান্দিনা কাঠের পুল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তাইম চান্দিনা পৌরসভার রাড়িরচর এলাকার বাবুল মিয়ার বড় ছেলে এবং বড় গোবিন্দপুর আলী মিয়া ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র।
জানা যায়, প্রাইভেট শেষে বাড়ি ফেরার পথে চান্দিনা কাঠের পুল এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় একটি দ্রুতগতির লরিচাপায় সে নিহত হয়।
অন্যদিকে বুড়িচং উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিমসার বাজার এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় দু’জন নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিয়ারবাজার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহাব উদ্দিন।
নিহত দু’জন হলেন— নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম মইন (৪০) ও মেহেরপুর জেলার কেশবপুর গ্রামের মো: সোহেল রানা (৩৫)।
ওসি সাহাব উদ্দিন জানান, বুধবার ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিমসার বাজার এলাকায় ঢাকামুখী লেনে কাভার্ডভ্যানের পেছনে ট্রাকের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই দুই পরিবহনের দুই চালক নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন ট্রাকের হেলপার। ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় নিহতদের লাশ উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে একইদিন (বুধবার) ভোররাতে দাউদকান্দি উপজেলার কানড়া মাজার এলাকায় অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় অটোরিকশার চালকসহ আহত হয়েছেন আরো চারজন।
চাঁদপুরের বেলতলী সোলেমান লেংটার মেলা থেকে বাড়ি ফেরার পথে তারা দুর্ঘটনার শিকার হন।
নিহতরা হলেন— দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের সরকারপুর গ্রামের মরহুম লতু মিয়ার ছেলে বারেক (৪২) ও একই এলাকার মো: নুর ইসলামের ছেলে মোস্তফা (৪০)।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন— মো: নবীর হোসেন (৩৮), মো: কাওসার (৪০), ইসমাইল (৩৭) ও মো: সাগর মিয়া (৩৫)। তাদেরকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
একইদিন (বুধবার) ভোরে উপজেলার পদুয়া এলাকায় ট্রাক মেরামতের সময় অজ্ঞাত একটি গাড়ির চাপায় ওমর ফারুক (৩৯) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
নিহত ওমর ফারুকের বাড়ি নোয়াখালী জেলায় বলে জানা গেছে।
কুমিল্লা হাইওয়ে রিজিয়নের পুলিশ সুপার মো: শাহিনুর আলম খান বলেন, কুমিল্লায় সড়কে আইনশৃঙ্খলা মানার প্রবণতা কম। আমাদের টিম সবসময় সড়কে থাকে এবং আমরা চেষ্টা করি সবাইকে আইনশৃঙ্খলার মধ্যে রাখতে।



