অধ্যাপক ডা: মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর

রামেক হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ৩ হাজারে উন্নীত করা হবে

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ১ হাজার ২০০ থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজারে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক ডা: মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।

আব্দুল আউয়াল, রাজশাহী ব্যুরো

Location :

Rajshahi
রামেক হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ৩ হাজারে উন্নীত করা হবে : ডা. জাহাঙ্গীর
রামেক হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ৩ হাজারে উন্নীত করা হবে : ডা. জাহাঙ্গীর |নয়া দিগন্ত

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ১ হাজার ২০০ থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজারে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক ডা: মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজশাহী নগরীর উমরপুর, কুচপাড়া, বাগানপাড়া ও ডাবতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি একথা বলেন।

গণসংযোগ পরবর্তী পথসভায় ডা: জাহাঙ্গীর বলেন, বর্তমানে রামেক হাসপাতালে শয্যা সংকট প্রকট। ১ হাজার ২০০ শয্যার বিপরীতে ৩ হাজার রোগী ভর্তি থাকে। ফলে রোগীদের ফ্লোরে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেছি; আমাদের পরিকল্পনা হলো এই শয্যা সংখ্যা ৩ হাজারে উন্নীত করা। এজন্য বাজেট বৃদ্ধি করা হবে। যাতে প্রতিটি রোগী মানসম্মত ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী পান।

তিনি আরো জানান, রাজশাহীতে ক্যানসার, হার্ট অপারেশন, কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন এবং লিভারের জটিল চিকিৎসার পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা চালু করা হবে। যাতে এ অঞ্চলের মানুষকে আর ঢাকা বা বিদেশে যেতে না হয়।

রাজশাহী শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালু করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বিল্ডিং হলেও লোকবল সংকটে শিশু হাসপাতালটি চালু হচ্ছে না। আমরা বলেছি, প্রয়োজনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চিকিৎসকরা সেখানে বিনা পারিশ্রমিকে সেবা দেবেন। পাশাপাশি, ঈদগাহ মাঠের সামনের আল-আমিন হোস্টেল সংলগ্ন ৯ বিঘা জমিতে একটি নতুন সদর হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।

এসময় তিনি উল্লেখ করেন যে, স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের সাথে এ বিষয়ে তার প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।

রাজশাহীকে ‘বেকারের নগরী’ আখ্যা দিয়ে ডা: জাহাঙ্গীর বলেন, রাজশাহী শিক্ষানগরী হলেও এখানে কর্মসংস্থান নেই। আমরা দাবি জানিয়েছি এই অঞ্চলে দ্রুত একটি ইপিজেড (EPZ) স্থাপনের। এটি হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসবে এবং হাজার হাজার শিক্ষিত বেকারের কর্মসংস্থান হবে। তিনি মৃতপ্রায় বিসিক শিল্পনগরী পুনরুজ্জীবিত করা এবং হাইটেক পার্ককে কার্যকর করার ওপর জোর দেন।

বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে চিকিৎসা ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে বেসরকারি পর্যায়ে চিকিৎসা সেবার মূল্য একটি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা হবে। একইসাথে চিকিৎসা খাতে বরাদ্দ ৬ থেকে ৮ গুণ বৃদ্ধি করা হবে।

তিনি বলেন, রাজশাহীর এয়ারপোর্ট আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা গেলে হজযাত্রী, প্রবাসী শ্রমিক ও বিদেশগামী যাত্রীদের যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি আমসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য দ্রুত বিদেশে পাঠানো সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে রানওয়ে সম্প্রসারণ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

এ বিষয়ে তিনি ইতোমধ্যে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।গণসংযোগকালে ডা. জাহাঙ্গীর রাজশাহীতে একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট ভেন্যু নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে বলেন, খেলাধুলার উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণ সমাজকে এগিয়ে নেওয়া হবে।

তিনি আইপিএলসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন টুর্নামেন্টে বাংলাদেশী খেলোয়াড়দের সুযোগ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বিশেষ করে রাজশাহীর কৃতি ক্রিকেটার নাজমুল হোসেন শান্তর খেলার সুযোগ না পাওয়া দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।

এসময় তার সাথে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা রাজশাহীর উন্নয়নে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে ডা: জাহাঙ্গীরকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।