লিবিয়া থেকে নৌকাযোগে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে টানা কয়েকদিন আটকা পরে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের একই গ্রামের তিন যুবকসহ চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে এই খবর পাওয়ার পর থেকেই নিহতদের গ্রামের বাড়িতে শুরু হয় শোকের মাতম। বারবার মুর্ছা যাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা।
মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মারা চার যুবক হলেন— দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের আবু সরদারের ছেলে নুরুজ্জামান ময়না (৩৮), আব্দুল গনির ছেলে সাজিদুর রহমান (৩২), মরহুম কারী ইসলাম উদ্দিনের ছেলে শাহান এহিয়া (২৫) ও উপজেলার রনারচর গ্রামের মুজিবুর রহমান (৩৬)।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় দালাল চক্রের মাধ্যমে গত রমজান মাসে লিবিয়া যাওয়ার জন্য বাড়ি ছাড়েন তারাপাশা গ্রামের চার যুবক। পরে লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার জন্য ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিচ্ছিল তারা। নৌকাযোগে সাগর পাড়ি দেয়ার পর থেকে পরিবারের সাথে সকল ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় তাদের।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বক্তব্যে তাদের সাথে থাকা এক যুবকের বর্ণনা মতে, দুর্ঘটনায় তাদের সাথে থাকা ১৮ জন নৌকাতেই মারা গেছেন। দুই দিন লাশগুলো নৌকায় ছিল। কিন্তু লাশ পচে দুর্গন্ধ ছড়ালে দিরাইয়ের চার জনসহ ১৮ জনের লাশ সাগরে ফেলে দেয়া হয়।
গ্রিসের উদ্দেশে পাড়ি জমানো তারপাশা গ্রামের চার যুবকের মধ্যে একমাত্র বেঁচে যাওয়া রোহান গ্রিসে পৌঁছেছে। গ্রিসে পৌঁছে রোহান নিহতদের পরিবারকে ওই তিন যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি জানান।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী নিহতদের পরিবারের বরাত দিয়ে ওই তিন যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


