রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতে জয় পেয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা। আর বাকি দু’টিতে জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রাজশাহী জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) আফিয়া আখতার স্বাক্ষরিত প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন এক লাখ ৭১ হাজার ৭৮৬টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) শরিফ উদ্দিন পেয়েছেন এক লাখ ৬৯ হাজার ৯০২ ভোট। এ আসনে প্রার্থী ছিলেন চারজন। অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ১৯৮৬ সালে এই আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
আসনটিতে মোট ভোটার চার লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ জন। ভোটকেন্দ্র ছিল ১৬০টি। ভোট কাস্ট হয় তিন লাখ ৫১ হাজার ৮৪৪টি। আর তিন লাখ ৪৩ হাজার ৮৫৮টি বৈধ ভোট বিবেচিত হয়, যার শতকরা হার ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ। বাতিল হয় সাত হাজার ৯৮৬টি ভোট।
রাজশাহী-২ (সদর) আসনে বিএনপির মিজানুর রহমান মিনু জয়ী হয়েছেন। তিনি এক লাখ ২৮ হাজার ৫৪৬টি ভোট পেয়েছেন। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক ডা: মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর পেয়েছেন এক লাখ ৩৭০ ভোট। এ আসনে প্রার্থী ছিলেন ছয়জন।
এ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৬৯ হাজার ৫৬৪ জন। ভোটকেন্দ্র ছিল ১১৬টি। মোট ভোট কাস্ট হয় দুই লাখ ৩৫ হাজার ৯১৬টি। বৈধ ভোট বিবেচিত হয় দুই লাখ ৩১ হাজার ৪৪২টি। বাতিল হয় চার হাজার ৪৭৪টি ভোট। এ আসনে প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। এছাড়া মেয়র থাকা অবস্থায় ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন।
রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সহ-সম্পাদক শফিকুল হক মিলন জয় পেয়েছেন। তিনি পেয়েছেন এক লাখ ৭৬ হাজার ৩১৮টি ভোট। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন এক লাখ ৩৭ হাজার ৯২৭ ভোট। এ আসনে প্রার্থী ছিলেন ছয়জন।
এ আসনে ভোটকেন্দ্র ছিল ১৩২টি। ভোটার চার লাখ ২৩ হাজার ৭৩৮ জন। তিন লাখ ২৭ হাজার ৪০৭টি ভোট কাস্ট হয়। বৈধ ভোট ছিল তিন লাখ ১৯ হাজার ২৬১টি। আর বাতিল হয় আট হাজার ১৪৬ ভোট। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৭৭ দশমিক ২৭ শতাংশ।
রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা: আব্দুল বারি সরদার জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন এক লাখ ১৫ হাজার ২২৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ডি এম ডি জিয়াউর রহমান পান এক লাখ নয় হাজার ৪৬১ ভোট। এ আসনে প্রার্থী ছিলেন চারজন।
আসনটিতে মোট কেন্দ্র ১২৩টি। মোট ভোটার তিন লাখ ১৯ হাজার ৯০৯ জন। প্রদত্ত মোট ভোট দুই লাখ ৩১ হাজার ১৯০টি। বৈধ হয় দুই লাখ ২৭ হাজার ১১৬। আর বাতিল হয় চার হাজার ৭৪ ভোট। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৭২ দশমিক ২৭ শতাংশ।
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল জয় পেয়েছেন। তিনি মোট এক লাখ ৫৩ হাজার ৪২৫ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মনজুর রহমান পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৪৪৫ ভোট। এ আসনে প্রার্থী ছিলেন সাতজন।
আসনটিতে ১৩৩টি ভোটকেন্দ্র। মোট ভোটার রয়েছেন তিন লাখ ৫৩ হাজার ১৭৩ জন। প্রদত্ত ভোট দুই লাখ ৪৩ হাজার ৪৩৬। এই আসনে ভোট বৈধ হয় দুই লাখ ৩৭ হাজার ৭৯৮টি এবং বাতিল হয় পাঁচ হাজার ৬৩৮ ভোট। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ জয়লাভ করেছেন। তিনি এক লাখ ৪৮ হাজার ৬৭২ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ নাজমুল হক পেয়েছেন ৯২ হাজার ৯৬৫টি ভোট। এ আসনে প্রার্থী ছিলেন চারজন।
আসনটিতে তিন লাখ ৫৬ হাজার ৯৫৯ জন ভোটারের জন্য ভোটকেন্দ্র ছিল ১২০টি। মোট ভোট কাস্ট হয় দুই লাখ ৫৩ হাজার ৩০২টি। ভোট বৈধ বিবেচিত হয় দুই লাখ ৪৬ হাজার ১৯৫টি। ভোট বাতিল হয় সাত হাজার ১০৭টি। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৭০ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
এর আগে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া ভোটকেন্দ্রের ভেতরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর বা সহিংস ঘটনা ঘটেনি বলে বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। সব বয়সী নারী-পুরুষ ও তরুণ ভোটারেরা নির্বিঘ্নে ও স্বতস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।



