সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর পদ্মা সেতু এলাকা পরিদর্শন

আসন্ন ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সব কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা হবে বলে সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে আরো জানা গেছে।

গোলাম মঞ্জুরে মাওলা অপু, লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ)
সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর পদ্মা সেতু এলাকা পরিদর্শন
সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর পদ্মা সেতু এলাকা পরিদর্শন |ছবি : নয়া দিগন্ত

নতুন সরকারের সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম দেশের অন্যতম বৃহৎ যোগাযোগ অবকাঠামো পদ্মা সেতু এলাকা এবং টোল বুথ সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন।

শুক্রবার (২০ফেব্রুয়ারি) সকালে পূর্ব নির্ধারিত ভ্রমণসূচি অনুযায়ী তিনি বাগেরহাট যাত্রাকালে পথিমধ্যে পদ্মা সেতু এলাকা এবং টোল বুথ পরিদর্শন করেন।

এ সময় মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে পৌঁছালে মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনসাধারণের সড়কপথে যাতায়াত নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিময় করতে সদয় নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তিনি যেকোনো মূল্যে আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ সারাদেশের মানুষের ঈদযাত্রা নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন।

আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষের ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে সেতু বিভাগ। মন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দকে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খল রাখার লক্ষ্যে রমজানের শুরু থেকে ঈদ পরবর্তী আরো ১৫ দিনসহ সর্বমোট ৪৫ দিনের একটি সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন।

ঈদ উপলক্ষে পদ্মা সেতুতে যানবাহনের সম্ভাব্য অতিরিক্ত চাপ মোকাবিলায় সকল টোল লেন সার্বক্ষণিক সচল রাখা, পর্যাপ্ত জনবল মোতায়েন এবং টোল আদায় কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও গতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন সেতু সচিব।

এ সময় সেতু সচিব সকল টোল বুথের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ETC) লেনগুলো সার্বক্ষণিক সচল রাখার নির্দেশনা প্রদান করেন। যাতে টোল আদায় কার্যক্রম আরো দ্রুত, স্বচ্ছ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয় এবং যানজটের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতি ও পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করার নির্দেশ প্রদান করা হয়।

এছাড়াও যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা দ্রুত ও কার্যকরভাবে মোকাবিলার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক রেকার, ফায়ার ভেহিক্যাল ও অন্যান্য জরুরি সেবা যান প্রস্তুত রাখা, ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা জোরদার করা এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশনা প্রদান করেন। একইসাথে স্থানীয় প্রশাসন, হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সাথে নিবিড় সমন্বয় ও কার্যকর যোগাযোগ বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়।

পরিদর্শনকালে সেতু সচিব মাওয়া প্রান্তে চলমান বাস-বে নির্মাণ কাজ আসন্ন ঈদ-উল-ফিতরের পূর্বেই সম্পন্ন করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

এ সময় সেতু সচিব বলেন, বাস-বে চালু হলে যাত্রী ওঠানামা আরো সুশৃঙ্খল হবে, মূল সড়কে যানজট হ্রাস পাবে এবং সার্বিকভাবে ঈদযাত্রা আরো নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ও অতিরিক্ত সচিব আলতাফ হোসেন শেখ, সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো: ফেরদাউসসহ সেতু কর্তৃপক্ষ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীবৃন্দ।

শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মাসুদ রানা শিকদারের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

আসন্ন ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সব কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা হবে বলে সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে আরো জানা গেছে।