জ্বালানি তেল অ্যাজেন্টদের সাথে মতবিনিময়

পেট্রোল পাম্পে ভুয়া কৃষক ধরতে পারলে পুরস্কার, আর যাদের জন্য শাস্তি

সভায় অনিয়ম, মজুদদারি ও কৃত্রিম সংকট তৈরির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।

হুসাইন মালিক, চুয়াডাঙ্গা

Location :

Chuadanga
জ্বালানি তেল অ্যাজেন্টদের সাথে ডিসির মতবিনিময়
জ্বালানি তেল অ্যাজেন্টদের সাথে ডিসির মতবিনিময় |নয়া দিগন্ত

চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি তেল সরবরাহ, মজুদ পরিস্থিতি ও বাজার নিয়ন্ত্রণে অ্যাজেন্টদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।

সভায় অনিয়ম, মজুদদারি ও কৃত্রিম সংকট তৈরির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।

সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় জানানো হয়, জেলায় বর্তমানে ২২টি ফিলিং স্টেশন ও ৪৬টি অ্যাজেন্সির মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে এবং খুব দ্রুতই সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল আল নাসের বলেন, ‘ঘরে বা গুদামে জ্বালানি তেল মজুদ রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তীব্র গরমে সামান্য আগুনের স্ফুলিঙ্গও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।’

এক দিনের মধ্যে মজুদ তেল প্রশাসনের কাছে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি সতর্ক করেন, ‘এরপর কারো কাছে মজুদ তেল পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বি এম তারিক উজ্জামান বলেন, ‘পাম্পে আসা কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী তেল দেয়া হবে, অতিরিক্ত তেল দেয়া যাবে না।’

জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, ‘জ্বালানি তেল একটি জরুরি সেবা। জনভোগান্তি রোধ ও বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে স্বচ্ছতার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মোটরসাইকেলে ৩ লিটারের বেশি তেল থাকলে সেই বাইক পাম্পে এলে তা আটক করা হবে। রাতে পাম্পে অবস্থানরত মোটরসাইকেল জব্দ করে থানায় মামলা দেয়া হবে। আলমডাঙ্গা ও জীবননগর উপজেলার পাম্পগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন এবং নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।’

এছাড়া ভুয়া কৃষক শনাক্তে পাঁচটি থানার ওসিদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। যে প্রথম ভুয়া কৃষক আটক করতে পারবে, তাকে পুরস্কৃত করা হবে বলেও জানান তিনি।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন নয়ন কুমার রাজবংশী, আলাউদ্দিন আল আজাদ, মিজানুর রহমান, বানি ইসরাইল, মামুন হোসেন বিশ্বাস, হুমায়ুন কবীর, শাহআলম সনি, সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুসাইন ও বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলাম মনিসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং জ্বালানি তেল বিপণন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও অ্যাজেন্টরা।