ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন–দৌলতখান) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো: ফজলুল করিম নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বোরহানউদ্দিন উত্তর বাসস্ট্যান্ডে এ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। ইশতেহার ঘোষণার পর উত্তর বাসস্ট্যান্ড থেকে দক্ষিণ বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত একটি বিশাল গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
ইশতেহার ঘোষণাকালে মো: ফজলুল করিম বলেন, ‘ইনসাফ, উন্নয়ন ও মানবিক মর্যাদার ভোলা-২ গড়াই আমাদের লক্ষ।’
তিনি বলেন, ‘ভোলা-২ একটি সম্ভাবনাময় দ্বীপাঞ্চল হলেও দীর্ঘদিনের অবহেলা, দুর্নীতি ও বৈষম্যের কারণে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ অবস্থা পরিবর্তনে সৎ নেতৃত্ব, আল্লাহভীতি ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।’
ইশতেহারে ভোলা–বরিশাল সড়ক যোগাযোগের জন্য বহুপ্রতীক্ষিত ভোলা সেতু নির্মাণে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণের অঙ্গীকার করা হয়। কৃষি ও মৎস্য খাতে ইলিশকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডে রূপান্তর, জেলেদের জন্য স্থায়ী ভাতা ও বিকল্প কর্মসংস্থান, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, সুদমুক্ত কৃষিঋণ এবং কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে গ্যাস ও বিদ্যুৎভিত্তিক ইকোনমিক জোন, কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক শিল্পকারখানা এবং যুবকদের জন্য আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
শিক্ষা খাতে একটি ভোলা দ্বীপ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, প্রতিটি ইউনিয়নে মানসম্মত মাধ্যমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয়। স্বাস্থ্য খাতে ভোলাতেই চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ, ২৪ ঘণ্টার জরুরি সেবা ও ভাসমান মেডিক্যাল সার্ভিস চালুর অঙ্গীকার করা হয়।
ইশতেহারে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা ও চরদখলের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা দিয়ে ডিজিটাল ভূমি রেকর্ড চালু ও ঘুষবিহীন সেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়।
এছাড়াও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সকল ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা, ধর্মীয় উপাসনালয় সংরক্ষণ এবং সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
পরিবেশ ও দ্বীপ উন্নয়নের অংশ হিসেবে নদীভাঙন প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান, সুপেয় পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং জলবায়ু সহনশীল বাসস্থান নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও ইশতেহারে তুলে ধরা হয়।
শেষে তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমতার রাজনীতি নয়, খিদমতের রাজনীতি করতে চাই। ইনসাফের শাসন ও আল্লাহভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাই।’
ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বোরহানউদ্দিন উপজেলা আমির মাওলানা মাকসুদুর রহমান, এনসিপির ভোলা জেলা সদস্য সচিব মেহেদী হাসান শরীফ, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক কাউছার আহমেদ মিয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উপজেলা আমির মাওলানা আব্দুস সালাম, শিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য হেলাল উদ্দিন রুবেল, ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামাল উদ্দিন রায়হানসহ জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।



